এইবেলা ডেস্ক::
বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে বণিক সমিতির কার্যালয়ে গত ২৩ মার্চ রাতে নারিকেল চুরির ঘটনায় সামাজিক বিচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার ব্যাখা ও অপ্রপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জানান, গত ২২ মার্চ দক্ষিণভাগ বনিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবরে সাবেক এমপি মরহুম আলহাজ¦ ইমান উদ্দিন আহমেদ সাহেবের মার্কেটের দায়িত্বরত মো. তাহির আলী, একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, গজভাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলী হোসেন মান্না ও দোহালিয়া গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে ফৈয়াজ আহমদ ফইয়া এমপি সাহেবের মালিকানাধীন নারিকেল গাছ থেকে ২২টি নারিকেল চুরি করে নিয়ে গেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ মার্চ রাত ৯.০০ ঘটিকার সময় দক্ষিণভাগ বনিক সমিতির কার্যালয়ে সমিতির সভাপতি/সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ও এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় ও অভিযোগকারীকে নিয়ে বিচার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ স্বীকার করেন যে, তারা মরহুম ইমান উদ্দিন এমপি সাহেবের মালিকানাধীন ভূমির নারিকেল গাছ হতে ২২ (বাইশ) টি নারিকেল চুরি করেছেন। এছাড়াও বিগত সময়ে বাজারের আরো নারিকেল চুরি হয়েছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে, যা হাতে নাতে ধরা যায়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরির মতো ঘৃনিত কাজ করবেন না মর্মে মৌখিকভাবে জানান এবং সেই সকল উপস্থিত বিচারকগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উৎসুক জনতা ও জনরোষ থেকে বাচাঁনোর জন্য আলী হোসেন মান্নার পিতা আবুল হোসেন—কে তার ছেলে আলী হোসেন মান্নার বিচার করার জন্য বলা হলে তিনি তার আত্মীয় বিশিষ্ঠ সমাজসেবক হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন সাহেবকে বিচার করার জন্য অনুরোধ জানান। আবুল হোসেনের বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন শুধুমাত্র ভবিষ্যতে চুরির মতো কোনো অপরাধ না করার জন্য শাসন করতে গেলে আকস্মিকভাবে আলী হোসেন মান্না উপস্থিত মুরব্বীয়াগণের সম্মুখে চরমভাবে বেয়াদবী ও অশালীন নোংরা/খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। তখন তার পিতার অনুরোধে বাধ্য হয়ে তিনি তাকে শারিরীকভাবে শাসন করেন। যা শুধুমাত্র তার পিতা আবুল হোসেনের আদেশ ও অনুরোধে। হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন ব্যক্তিগত কারণে আলী হোসেন মান্নাকে আঘাত করেন নাই। মূলত বনিক সমিতির এই বিচারে হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনকে উক্ত আলী হোসেন মান্নাই নিয়ে আসেন।
কিন্তু অতিব দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আলী হোসেন মান্নার চরম বেয়াদবি ও বিভিন্ন পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কারনে উৎসুক জনতার মধ্য থেকে কে বা কাহারা হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীন কর্তৃক শাসনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচার হওয়ায় বাজার বণিক সমিতি ও হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
পরবর্তীতে উক্ত আলী হোসেন মান্না তার নিজের ফেসবুক আইডি হতে লাইভে গিয়ে নোংরা ভাষায় তার পিতা আবুল হোসেন, বনিক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক সহ পরিচালনা কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ এবং হাফিজ খলিলুর রহমান শাহীনকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আলী হোসেন মান্নার এমন কর্মকান্ডের জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হক, সহসভাপতি ইসলাম উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সনজিত দাস, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমদ, সদস্য আব্দুস সহিদ পটল, আজিজ আহমদ, শাহীন আহমদ, অভিযোগকারি তাহির আলী প্রমুখ।