বড়লেখা পৌরপ্রশাসক : আলোচনায় আনোয়ারুল ইসলাম ও আব্দুল কাদির – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাতকে ফুটবল টুর্নামেন্টের বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত শতাধিক চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন- বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে ভোটার ৪ হাজার, প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু বড়লেখায় ইউসি ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেন বিষয়ক র‌্যালি ও আলোচনা সভা কর্মজীবনের ইতি টানছেন ব্যাংকার সালাহ্ উদ্দিন : গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ভাতিজির সাথে অসমপ্রেম : প্রেমিকার পিতার হাতে যুবক নি হ ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে অভিযোগ : ছাতকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাগনা বড়বিলে মাছ লুটের প্রস্তুতি! খন্ডিত শিক্ষা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি হয় না- ড. আবেদ চৌধুরী জুড়ীতে ১৩ বায়োগ্যাস প্লান্ট প্লান্ট থেকে ৮০ পরিবার বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে কুড়িগ্রামে ৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল : জেলায় পাসের হার ৪০.৭২%  ওসমানীনগরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ৩ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

বড়লেখা পৌরপ্রশাসক : আলোচনায় আনোয়ারুল ইসলাম ও আব্দুল কাদির

  • রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

Manual6 Ad Code

এইবেলা ডেস্ক::

বড়লেখা পৌরসভার পৌর প্রশাসক পদায়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে চলছে নানা আলোচনা।

দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং দলের দুর্দিনে হামলা—মামলা, গুম—খুনের শংকা মাথায় নিয়েও বিএনপি ছাড়েননি, নানা হুমকি—ধমকির পরও দলীয় কর্মসূচি পালন থেকে সরে যাননি এমন কোনো ত্যাগি নেতার মূল্যায়ন হচ্ছে নাকি বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় দায়িত্বশীলদের সাথে লিয়াঁজো করে ব্যবসা—বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া কোনো সুবিধাবাদি বিএনপি নেতা পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তৃণমুল বিএনপিতে এমন সংশয়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে, পৌরপ্রশাসকের আলোচনায় রয়েছেন দুইজন বিএনপি—যুবদল নেতা। এদের একজন ২০১৫ ও ২০২০ সালের চরম দুঃসময়ে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সহ—সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ।

Manual5 Ad Code

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী ছাত্রআন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। ১৯৮৬ সালে তিনি পিসি হাইস্কুল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরের বছর ১৯৮৭ সালে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে বড়লেখা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করেন। ১৯৯৭ সালে উপজেলা যুবদলের সহ—সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০৪ সালে সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৫ সালে বড়লেখা পৌর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইমলাম পৌর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী বিএনপির ডাকা সকল কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালের ও ২০২০ সালের পৌর নির্বাচনে যখন কোনো বিএনপি নেতা আওয়ামী লীগের গুম—খুন, জেল—জুলুমের ভয়ে মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সাহস দেখাননি, ঠিক সেই সময়েও তিনি বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষের মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ২০২০ সালের মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে দূরে রাখতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় নেতৃত্ব ওই বছরের আগষ্টে সংগঠিত মৎস্যজীবি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। আনোয়ারুল ইসলামের বসত বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রাত তিনটায় সংগঠিত ঘটনার মামলায় চার নম্বর আসামি করে তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হলেও তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

Manual4 Ad Code

প্রায় ৪০ বছরের ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম অসংখ্য মিথ্যা মামলা শিকার হয়েছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের দায়ে ১৯৮৭ সালে একাধিক মামলার আসামি হন, ৬ মাস ডিটেনশন কাটতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী, বিষ্ফোরক, হত্যা—সহ ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামী হন। আওয়ামী লীগের সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের মিথ্যা মামলায় এক মাস কারাভোগ ও ১৭ বছর মামলার ঘানি টেনে অবশেষে খালাস পান।

Manual2 Ad Code

এদিকে পৌরপ্রশাসক হিসেবে অপর যে যুবদল নেতার নাম শুনা যাচ্ছে, তিনি হলেন বড়লেখা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সহ—সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির পলাশ। দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী ছিলেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা পালনের অপরাধে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ১২টি মিথ্যা মামলা। সর্বশেষ চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র—জনতার পক্ষে সক্রিয় থাকায় ১৭ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ৬ আগষ্ট তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় এই যুবদল নেতা ৫ বারে ২১৩ দিন কারাবরণ করেন। দুই বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। প্রায় ১৫ বছরই থাকতে হয়েছে পালিয়ে। তার অনুসারীরা তাকে পৌরপ্রশাসক হিসেবে দেখতে ইতিমধ্যে পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেস্টুন স্থাপন করেছেন।

Manual4 Ad Code

তৃণমুলের বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, দলের দুর্দিনে—সংকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা বিএনপিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবদান রাখেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শকে মনে—প্রাণে ধারণ করেন, জাতীয়তাবাদী দলের জন্য জীবন—যৌবন উজাড় করে দিয়েছেন। দলের পরীক্ষিত ত্যাগী, নিবেদিত এবং দলীয় দায়িত্বের বাইরেও রয়েছে ভাল পরিচিতি, গ্রহণযোগ্য ও সেবামুখী মনমানসিকতা। এমন কোনো নেতাকে পৌরপ্রশাসকের দায়িত্বে বসালে এলাকার উন্নয়ন ও পৌরবাসীর আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে।

এব্যাপারে বড়লেখা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘আমি বিএনপি পরিবারের পরীক্ষিত সৈনিক। দলের দুঃসময়ে—সুসময়ে প্রত্যেটা কঠিন পরিস্থিতিতে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ জানান, দলের দুর্দিনে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নেতাকর্মীরা তাকে পৌরপ্রশাসক দেখতে চাচ্ছেন। পৌর এলাকার সম্মানিত নাগরিকদের অধিকার ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা গঠনে শাসক নয়, সেবক হিসেবে তিনি পৌরবাসীর পাশে থাকতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews