মৌলভীবাজার প্রতিনিধি::
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধির পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের খবর প্রকাশের পর সেই অসহায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তা প্রদানের ধারাবাহিকতায় এবার ওই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধিসহ মোট ১৪ জন সদস্যের জন্য বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে যান এবং তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদার, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সদস্য পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটান। উপার্জনের কোনো সক্ষমতা না থাকায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এই পরিবারটির করুণ চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরপরই জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে বন্যাকবলিত এই অসহায় মানুষ ও কড়াইয়া হাওর এলাকার পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের স্থায়ী চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অসহায় পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সম্পন্ন করার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি এই সহায়তা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।##