মার্চ এপ্রিল ২ মাস ইলিশ ধরা বন্ধ!   – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় প্রাইমারি স্কুলের আঙিনায় বৃক্ষ চারা রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন আদালতের নির্দেশে দোকান খুলে নগদ টাকা, মালামাল ও লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগ: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি। আত্রাইয়ে বয়তুল্ল্যাহ সেতুর পাশে ধস: বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমলগঞ্জে হামলা করে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে সহায়তা বিতরণ কমলগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকায় বিমান বাহিনীর ত্রাণ বিতরণ আত্রাইয়ে বর্ষার নতুন পানিতে জেলেদের মাছ শিকারের মহোৎসব জুড়ীর বন্যা দুর্গতদের চিকিৎসায় বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্প : ৫ শতাধিক রোগিকে ওষুধ প্রদান বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ বড়লেখা সীমান্তে রেলবন্দর স্থাপনের সম্ভাবনা : কাষ্টমস ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের পরিদর্শণ

মার্চ এপ্রিল ২ মাস ইলিশ ধরা বন্ধ!  

  • মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

Manual5 Ad Code
অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর::
জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষা করতে সরকার ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল দুমাস দেশের চারটি নদী অঞ্চলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে আসছে।
লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর পদ্মা নদীর প্রায় দেড়শ কিলোমিটার নদী এলাকাকে পঞ্চম অভয়আশ্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইলিশ মাছের পোনা জাটকা রক্ষায় সরকার মার্চ-এপ্রিল দুমাস অভয়াশ্রম ঘোষণা করে পদ্মা মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জেলেরা ইতোমধ্যে তাদের নৌকাগুলো ডাঙ্গায় তুলে ফেলেছে। আজ লক্ষীপুরের মেঘনা বেষ্টিত প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে- নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে জেলেরা তাদের ব্যবহৃত নৌকাগুলো রাখার ব্যবস্থা করেছে। দুমাস পর্যন্ত নৌকাগুলো সেখানে বাধা থাকবে। তবে মাছ ধরা না ধরা নিয়ে হতাশাগ্রস্থ জেলে পরিবারগুলো।
জাটকা সংরক্ষণে আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।
ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য ০১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস দেশের ৬টি জেলার ৫টি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকা হচ্ছে চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর/চর ইলিশা হতে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা।
প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এসময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্যকারী কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নিষিদ্ধ সময়ে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট ৬টি জেলার জাটকা আহরণে বিরত থাকা ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৭৮জন জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি হারে মোট ১৯ হাজার ৫০২ মেট্টিক টন ভিজিএফ চাল ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
জেলে কার্ড পাওয়া কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানায়- ‘প্রত্যেক বছর দুই মাস গাঙ্গে অভিযান চলে।এই দুই মাস আমাগো নৌকাগুলো উপরে তুইলা রাখা লাগে। সরকার আমাগোরে ৪০ কেজি কইরা চাউল দেয়, পরে এই ৪০ কেজি চাউল বাড়িতে আইনা মাপ দিলে কয়েক কেজি কম হয়। সরকার আমাগো কথা ভাবে না। এরা কি জানেনা যে চাউল খাইয়াই কি মানুষ বাঁচতে পারে?
৪০ কেজি চাউল দিয়ে একটি পরিবার কোনোমতেই চলতে পারেনা। কয়েকজন জেলে জানান সরকার তাদের ভালোর জন্যই দুই মাস নদীতে জাল ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কিন্তু এর বিনিময়ে সরকার তাদের যে সহযোগিতা দিয়ে থাকে তাতে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে চলতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হয়। এই দু মাস যদি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হতো তবে তার মতো দরিদ্র জেলেরা বউ বাচ্চা নিয়ে বেঁচে থাকা সহজ হতো। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান সরকার প্রকৃত জেলেদের জন্য জেলে কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেখানে স্থানীয় জেলেরা স্বজনপ্রীতি করেছে। তারা এমন লোককে ভিজিএফ কার্ড দিয়েছে যে, যাদের বংশে কেউ এ কাজের সাথে সম্পর্ক নেই।’
এছাড়া তারা আরও অভিযোগ করে বলেন-‘সরকারের পাশাপাশি ছাগল পালনের সুবিধা দিয়ে থাকেন কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব সুবিধাগুলো প্রকৃত জেলেরা পায় না।’
ভবিষ্যতে এসব বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে ভালো করে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!