- কৃষি, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, স্থানীয়, স্লাইডার

রাজনগরের আখলু মিয়া চৌধুরীর কৃষিবিপ্লব ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের ২৫-৩০ গ্রামে

কৃষিতে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার-

এইবেলা, রাজনগর ০৫ মার্চ :: দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসেন শীতকালীন সবজি কিনতে। কেননা এই সবজিতে কোন কীটনাশকের ব্যবহার হয়না। তাইতো সকাল হলেই সবজি ব্যবসায়ীদের লাইন পড়ে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কর্ণিগ্রামে। কেননা এই গ্রামেই সেই সবজি কারিগর ও জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত আখলু মিয়া চৌধুরীর বাড়ি ও সবজির মাঠ।

আখলু মিয়া চৌধুরী জানান, মৌলভীবাজার কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাশ করেন। তখন টুকটাক সাংবাদিকতায়ও জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি সৌখিন চাষী হিসেবে সবজি চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের সাথে সম্পর্কের কারণে সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০০২ সাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু করেন সবজি চাষ।

Aklu Miah Chy

প্রতি বছর শীত মৌসুমে শুধু সবজি চাষ করে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করেন সবজি চাষে বিপ্লব সৃস্টিকারী আখলু মিয়া চৌধুরী। তার এই সবজি বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন আশপাশের ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামে চাষিরা এগিয়ে এসেছেন সবজি চাষে। শীতের সকালে সবজি ক্রেতাদের পদভারেই যেন জেগে উঠে কর্ণিগ্রাম। রাজনগর, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় আখলু মিয়া চৌধুরীর সবজির কদর সবচেয়ে বেশি।

রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে শুধু জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে সবজি চাষ করেন আখলু মিয়া চৌধুরী। ফলে বাজারে অন্য সবজি থেকে তার সবজির কদর বেশি। দামও বেশি। সচেতন ক্রেতারাও এই সবজির প্রতি বেশি আকৃষ্ট।

Aklu Miah Chy 2

সরেজমিনে কৃষিক্ষেত্রে অসামন্য অবদানকারী আখলু মিয়া চৌধুরীর সবজির উদ্যানে গেলে হতবাক হতে হবে যে কাউকে। শীতকালিন সবজি বলতে টমেটো, বেগুন, লাউ, ফুলকপি, বাধাকপি, ওলকপি, মরিচ, আলু, মিষ্টি লাউ প্রভৃতি মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। এরমধ্যে শীতকালে শুধু টামেটো চাষ করা হয় ৩ ধাপে ৫ বিঘা জমিতে। ইতোমধ্যে ২ ধাপে টমেটো ফলন ও বিক্রি শেষ হয়েছে। শেষ ধাপে এসেছে ফুল। আশ্চর্য হওয়ার মত কথা, প্রতি বিঘায় টমেটো উৎপাদন হয় ৭শ থেকে ১ হাজার মন। শীতকালে ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে সবজাতের সবজি চাষ করেন থাকেন।

আখলু মিয়া চৌধুরী কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করার পর শুধু রাজনগর উপজেলা, মৌলভীবাজার জেলা এমনকি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের নজর কাড়েন। প্রশিক্ষণের জন্য তাকে থাইল্যান্ডের ক্যাসাসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রাপ্ত প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষে আরও মনযোগি হন।

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষের এক যুগ পর কৃষিকাজে অসামান্য অবদানের জন্য আখলু মিয়া চৌধুরী বিবেচিত হন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারের জন্য। চলতি বছর অর্থাৎ গত ৭ জানুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে গ্রহণ করেন পুরস্কারটি। তিনি বর্তমানে ২২ সদস্যের কর্ণিগ্রাম আইপিএম ক্লাবের সভাপতি। আর এই ক্লাবে এসেছে কম্পিউটার এবং আধুনিক রোপন মেশিন। কৃষির সাথে এই ক্লাবের সদস্যরা এখন প্রযুক্তিরও ব্যবহার করছেন।

আখলু মিয়া চৌধুরী অকপটে স্বীকার করেন, এই সবজি চাষ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। এই আয় থেকে তিনি বেশ কিছু জমি ও রাইছমিল কিনেছেন। তিনি ছাড়াও তার সবজি ক্ষেতে কাজ করে ১০-১২টি পরিবার এখন স্বাবলম্বি। সকালে ক্রেতাদের পাশাপাশি অনেক চাষি আসেন তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে- এটাই তার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে।#

রিপোর্ট- বিশেষ প্রতিনিধি

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *