জানুয়ারি ২১, ২০১৭
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় একযুগেও সংস্কার হয়নি ৩৫টি গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইন

কুলাউড়ায় একযুগেও সংস্কার হয়নি ৩৫টি গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইন

আব্দুল আহাদ, কুলাউড়া ২১ জানুয়ারি :: কুলাউড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইন রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইনের কারণে গ্রামের মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলেও কোন প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর, হাসনপুর, প্রতাবী, বনগাঁও, বালিচিরি, গুতগুতি, লক্ষ্মীপুর, বনগাঁও (২), শংকরপুর, ঝিমাই পুঞ্জি, কালিটি কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর, বাবনিয়া, বেরী, কোনাগাঁও, নোনা, নলডরী, মহিষমারা, কান্দীগাঁও, গুতুমপুর, রাঙ্গিছড়া বাজার, ফাড়ি বাগান, কালিটি চা-বাগানে, রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী, পালগ্রাম, রস্তুমপুর, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের পুরশাই গ্রামসহ প্রায় ৩৫ টি গ্রামে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন।

এসব গ্রামের অধিকাংশ বিদ্যুৎলাইন রয়েছে সুপারিগাছ ও বাঁশের খুঁটির ওপর। একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎহীন হয়ে যায় পুরো এলাকা। ঘটে যায় কোন না কোন এলাকায় দূর্ঘটনা। গত ৪ বছরে শিশুসন্তানসহ ১০ জন। মৃত্যুবরণকারীদের যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- পশ্চিম প্রতাবী গ্রামের একই পরিবারে কাশেম চৌধুরী (১২) ও কামিল চৌধুরী (৭) নাম দু’ভাই জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ছেলে শোকে এখনও আর্তনাত করে বেড়াচ্ছেন তার বাবা। এচাড়া লক্ষীপুর গ্রামের সুনু মিয়া (৪৫),আইন উল্লাহর মেয়ে মুমিনা বেগম (২২), এবং কর্মধা গ্রামের হায়দর আলীর স্ত্রী আজিরুন বেগম (৩৫)।

এচাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু-মহিষ ও ছাগলের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ওই বিদ্যুৎ লাইনগুলো মেরামতের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। যারফলে চাপা ক্ষোভ বিারজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এসব গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও সুপারিগাছের খুঁটি। তারগুলো রয়েছে খুবই দুর্বল। প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়ে আগুন লেগে দূর্ঘটনা ঘটছে নয়তো খুঁটি ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কখনো বা দিনের পর দিনও। অনেক সময় দায়ে পড়ে এগুলো স্থানীয় গ্রাহকরা নিজেদের উদ্যোগেই সাময়িকভাবে মেরামত করে নিতে বাধ্য হন। চলতি বর্ষা মৌসুমে একটু দমকা বাতাসেই ভেঙে যায় বাশের খুঁটিগুলো। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গ্রামের পর গ্রাম।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইসলামগঞ্জ ফিডারের অন্তর্ভুক্ত গাজীপুর কালিটি, রাঙ্গিছড়া বাজার হয়ে মিরবক্সপুর, ঘাগটিয়া, দানাপুরের মধ্য দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টেজের যে লাইনটি বেরী গ্রাম পর্যন্ত গিয়ে ১১ হাজার ভল্টেজের লাইন নিয়ে ২৫০ কেভির ট্রান্সফরমার নিয়ে বসানো হয়েছিল প্রায় দেড় যুগ আগে। কিন্তু এরপর থেকে সেই লাইনটিও খুবই ঝুঁকিপূর্ণভাবে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও হয়নি কোন সংস্কার কাজ।

বাবনিয়া-হাসিমপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আহসান উদ্দীন, কবিরাজি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ হোসেন ভূইয়া ও হাসিমপুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন, শিক্ষার্থী পল্লবী দাস অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ লাইন ও খুটিগুলো রয়েছে খুবই দুর্বল। সন্ধ্যার পরে ল ভোল্টেজের কারণে লাইটে টিকমতো আলো জ্বলে না।

করিবাজী গ্রামের প্রাক্তণ শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার ও এলাকাবাসীর পক্ষে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আবেদনকারী মো. তাজুল ইসলাম জানান, কবিরাজী এলাকায় যদি আলাদা একটি ট্রান্সফরমার বসানো হয় তাহলে এই এলাকার ৫টি গ্রামের বিদ্যুতের সমস্যা লাঘব হবে। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প নামের নতুন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানান।

এদিকে জনস্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরন ব্যবস্থার উন্নয়নে কতিপয় কাজ প্রকল্পভুক্তকরণের জন্য আব্দুল মতিন এমপি ২০১৫ সালের মার্চ মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাতেও কোন সুফল হয়নি।

এব্যাপারে কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীর মোজাফফর হোসেনের সরকারি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ দেখায়।

মৌলভীবাজার অ্যাসিসটেন্ট চিফ ইঞ্জিনিয়ার দুলাল হোসেন জানান, এলাকাবাসী একটি আবেদন করেছে। আমরা পরবর্তীতে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে দেবো।#