- জাতীয়, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

কুলাউড়ার মুক্তিযোদ্ধা ছগির আলীর কবর বিলীন করে দেয়ার পায়তারা!

সেলিম আহমেদ, ১৬ মে:: মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে স্থানীয় রাজকারদের হাতে নিহত কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছগির আলীকে স্থানীয় এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে দেয়নি স্থানীয় রাজকাররা। পরে তাঁর বাড়ী আধাকিলোমিটার দুরে শুকনা ছড়া নদীর পাড়ে সরকারি খাস জমিতে মাটিচাপা দেয়া লাশটি। এখন তার কবরটি পরিকল্পিতভাবে বিলীন করে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ওই রাজাকারদের দোষররা। কবরের পার্শ্ববর্তী জমির মাটি কেটে নেয়ায় হুমকির মূখে পড়েছে কবরটি। বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে কবরটি আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে সংরক্ষণের জন্য ইউএনর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

1

এলাকাবাসীর লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছগির আলী ছিলেন একজন গেরিলা যুদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে পাক বাহিনীর নির্দেশে স্থানীয় রাজকাররা ছগির আলী ও তাঁর সহকর্মী মনরাজ গ্রামের বশিরকে গুলি করে হত্যা করে। ৩দিন উঠানেই পড়েছিলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ছগির আলীর লাশ। শেষতক ৩দিন পরম মঙ্গলবারে বাড়ি থেকে আধাকিলোমিটার দুরে শুকনা ছড়া নদীর পাড়ে সরকারি খাস জমিতে মাটিচাপা দেয়া হয় ছগির আলীর লাশ। স্থানীয় একজন হাফিজ (যিনি এখনও জীবিত) ঘোষণা দেন, নিহত ছগির মিয়া একজন সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী মানুষ। তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। সেই রাজাকারদের দোষররা কবর থেকে ২৫-৩০ গজ দুরে নদীর বাঁকে গভীর গর্ত করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে  যাতে পানির স্রোতে কবরটি আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে কবরটি সংরক্ষণের অভাবে নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ছিলো।

Kulaura Pic (1) copy

কবরটি সংরক্ষণের জন্য পৃথিমপাশা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মো. মুফিজ আলী ও কুলাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সুশীল চন্দ্র দে কবরটি সংরক্ষণের জন্যও সুপারিশ করেছেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি এইবেলাকে জানান, আমি লিখিত আবেদন পেয়েছি। একজন অফিসারকে পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করিয়েছি। কবরটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নিচ্ছি, এনিয়ে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *