আগস্ট ৩১, ২০১৫
Home » জাতীয় » হবিগঞ্জের পৌর মেয়র গউছসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের পৌর মেয়র গউছসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এইবেলা, হবিগঞ্জ, ৩১ আগস্ট::

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে পৌর মেয়র (বরখাস্তকৃত) জিকে গউছসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সদর থানার এসআই ছানা উল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হল- কারাগারে গউছের ওপর হামলাকারী ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটন, যুবদল নেতা শফিকুর রহমান সেতু, ছাত্রদল নেতা জিকে ঝলক ও বিএনপি নেতা আবদুর রউফ বাহার।

শনিবার মামলাটির কপি জেলা দুর্নীতি দমন অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন জানান, এ মামলার আসামি জিকে গউছ, ইলিয়াছ মিয়া ও আবদুর রউফ বাহার বর্তমানে কারাগারে আটক আছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে। আশা করা যায়, তাদেরও অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা এবং বিস্ফোরক মামলায় হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক জিকে গউছ একই কারাগারে আটক দুটি হত্যা মামলার আসামি ইলিয়াছ মিয়া ওরফে ছোটনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অর্থমন্ত্রীকে হত্যা করতে ১০ কোটি এবং আবু জাহিরকে হত্যা করতে ২ কোটি টাকা দিতে ইলিয়াছের সঙ্গে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন গউছ। অগ্রিম হিসেবে ইলিয়াছের কারাগারের অ্যাকাউন্টে (পিসি) ১০ লাখ টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল।

পাশাপাশি তাকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করারও কথা ছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় জিকে গউছের কিছু অনুসারী কারাগারের অভ্যন্তরে সেলে গিয়ে ইলিয়াছের সঙ্গে দেখা করে কাজ করার তাগিদ দেয়। ঈদুল ফিতরের আগের দিন গউছের অনুসারী হাজতি আবদুর রউফ সেলে গিয়ে ইলিয়াছের সঙ্গে দেখা করে কেন কাজ করছে না এ জন্য তাকে গালিগালাজ করে।

ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে কোলাকুলি করার সময় গউছ তার কাজ না হওয়ায় ইলিয়াছকে গালিগালাজ করেন। তখন সে ধারণা করে গউছের অনুসারীরা তার ওপর হামলা করতে পারে। এক পর্যায়ে ইলিয়াছ একটি বালতির স্টিলের হাতল দিয়ে জিকে গউছের পিঠে আঘাত করে।

এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করলে ইলিয়াছকে রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার জবানবন্দির বরাত দিয়ে এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দুটি হত্যা মামলায় ইলিয়াছ কারাগারে আটক রয়েছে।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি জিকে গউছ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর কিছু দিন পরই একই মামলার আসামি সিলেট কর্পোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকেও কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এক পর্যায়ে আরিফুল হক চৌধুরী হবিগঞ্জ কারাগার থেকে অন্য কারাগারে চলে যান।

এর মাসখানেক পর কারান্তরীণ জিকে গউছের লোকরা ছোটনকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে। সাবেক জেল সুপার নূরশেদ আহম্মদ ভূঁইয়ার অনুমতি নিয়ে কারাগারের সুবেদার জহির ও সিআইডির (কারারক্ষী) আনোয়ারের সহায়তায় গউছের কক্ষে গিয়ে ইলিয়াছ দেখা করে। সেখানে বসেই এ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়।

রিপোর্ট-হবিগঞ্জ প্রতিনিধি