- জাতীয়, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য নেই কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

 এইবেলা, ডেস্ক ১৪ নভেম্বর :: এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে গত এক যুগেরও বেশি সময়ে এই হাওরে ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু হাওর ব্যবস্থাপনার সমস্যা ও হুমকিসমুহের খুব একটা উত্তরণ হয়নি। তাছাড়া হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমুহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন হাওরে উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িতরা।
হাকালুকি হাওর মুলত দুটি প্রশাসনিক জেলা মৌলভীবাজার ও সিলেট এবং (মৌলভীবাজার) কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা, (সিলেট) ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত। বর্ষায় প্লাবিত এলাকাসহ হাওরের মোট আয়তন হয় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর। আর শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী জলাভূমি (বিল) এর আয়তন প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ২লাখ মানুষের বসবাস। এসব মানুষের জীবন জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হাওরের উপরই নির্ভরশীল। হাওরের উপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জীবিকার দুটি প্রধান উৎস হলো মৎস্য ও কৃষি। ১৯৯৯ সালে সরকার এই হাওরকে ইসিএ (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া) হিসেবে ঘোষণা করে। এই হাওরকে শুধু এশিয়ার বৃুহত্তম হাওরই নয় দেশের সর্ববৃহৎ মিটাপানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র।

hakaluki bird 1
২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই হাওরে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় সমাজের লোকদের সহযোগিতায় ৪টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পগুলো হলো টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির একটি কম্পোনেন্ট (এসইএমপি) হিসেবে কমিউনিটি ভিত্তিক হাওর ও প্লাবনভূমির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করে যা এমওইএফ বাস্তবায়ন করে। ২০০২ সালে জিইএফ কারিগরী ও আর্থিক সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর উপকূলীয় ও জলাুভুমি জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সুচিত করে এবং স্থানীয় জনগণের দ্বারাস  হাকালুকি হাওর ইসিএ এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য অনেক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে। ইউএসএআইডি-আইপ্যাক প্রকল্প ডিওই দ্বারা বাস্তবায়িত হয়; জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও সহব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প পরিবেশ অধিদফতর বাস্তবায়ন করে, বিপদাপন্নতা এবং ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং ইকোসিস্টেম ভিত্তিক অভিযোজন (ভিআইএ এন্ড ইবিএ) একটি কেস স্টাডি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ই্উএনইপি) কারিগরি সহায়তায় পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক গৃহিত হয়।
সামাজিক সুরক্ষা (সিবিএ-ইসিএ) প্রকল্প চলতি বছরের জুন মাসেই শেষ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনা হয় কিন্তু সরকার হাকালুকি হাওরের ভবিষ্যত কার্যক্রমের জন্য কোন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।
হাকালুকি হাওরকে মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আন্দোলনকারী হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশাহ জানান, হাকালুকি হাওরকে সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনেক আন্দোলন করেছি। পরবর্তীতে অনেক প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে সেই আন্দোলন স্থিমিত হয়। কোন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়াটা হতাশার। এর প্রভাবও হাওরের উপর পড়বে।
হাওরের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত ইউএসএআইডি’র ক্রেল প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, হাওর ব্যবস্থাপনার জন্য কোন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় সমস্যা ও হুমকিসমুহ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমুহের মাধ্যমে যেসকল কাজ হয়েছে, সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সামগ্রিক হাওর মহাপরিকল্পনায় না থাকলেও এশিয়ার এই বৃহত্তম হাওরকে নিয়ে সরকারের উচিত আলাদাভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। আর তা সরকারের নজরে আনতে হবে।#

রিপোর্ট- আজিজুল ইসলাম

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *