রৌমারীতে বাল্য বিয়ে করতে এসে গণধোলায়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বহুমাত্রিক গুনে ছিলেন অনন্য- বড়লেখায় সাবেক মন্ত্রী ও সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা স্মরণে সভা ও দোয়া কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত- অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে আটজন গ্রেপ্তার ছাতকে ফুটবল টুর্নামেন্টের বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত শতাধিক চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন- বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে ভোটার ৪ হাজার, প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু বড়লেখায় ইউসি ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেন বিষয়ক র‌্যালি ও আলোচনা সভা কর্মজীবনের ইতি টানছেন ব্যাংকার সালাহ্ উদ্দিন : গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ভাতিজির সাথে অসমপ্রেম : প্রেমিকার পিতার হাতে যুবক নি হ ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর কাছে অভিযোগ : ছাতকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পাগনা বড়বিলে মাছ লুটের প্রস্তুতি! খন্ডিত শিক্ষা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি হয় না- ড. আবেদ চৌধুরী জুড়ীতে ১৩ বায়োগ্যাস প্লান্ট প্লান্ট থেকে ৮০ পরিবার বায়োগ্যাস ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে

রৌমারীতে বাল্য বিয়ে করতে এসে গণধোলায়ের শিকার খাদ্য কর্মকর্তা

  • বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২

Manual3 Ad Code

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বাল্যবিয়ে করতে এসে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও এর রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ (৫৪)।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে এ ঘটনটে। পরে জনতার রোষানল থেকে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন রৌমারী সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

স্থানীয়দের দাবি, প্রথম স্ত্রী’র ভূয়া অনুমতি সনদ ও কিশোরীকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করতে আসায় ওই কর্মকর্তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে।

Manual1 Ad Code

ইসকে আব্দুলাহ দিনাজপুর সদরের সুইহারী (খালপাড়া) গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য ইউনূছ আলী জানান, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শৌলমারী এমআর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ। এর সুবাদে কেন্দ্রেই পরিচয় হয় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে।

পরে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল নম্বরও নেন ওই কর্মকর্তা। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে কল দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন তিনি। প্রেমের সম্পর্ক গভীর হলে মঙ্গলবার (৯ আগষ্ট) সন্ধ্যার দিকে তিন সদস্যের বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে।

বিধি মোতাবেক প্রথম স্ত্রীর ভূয়া অনুমতির প্রত্যয়নপত্র নিয়ে এসেছেন। তার সঙ্গে আসা দুই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান) বিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি হননি। এমনকি তার কোনো স্বজনও আসেননি এবং ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের বয়স না হওয়ায় তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে একপর্যায় তাকে গণধোলাই দেয়। পরে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু।

Manual1 Ad Code

রৌমারী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, ওই কর্মকর্তা বিয়ে করতে এসে জনতার রোষানলের শিকার হয়েছেন। পরে বড় ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার স্ত্রী কামরুন আরার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘তাদের ঘরে দুই কন্যা সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এক মেয়ের বিয়েও দেওয়া হয়েছে। আরেক মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত এবং ছেলে সন্তান দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তিনি আরও জানান, তার স্বামী কিছু দিন ধরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেন এবং বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। এনিয়ে দিনাজপুর থানায় যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়েছে।’

Manual8 Ad Code

অভিযুক্ত রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইসকে আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রীর দু’টি অপারেশনের কারনে সে শারীরিকভাবে অপারগ। ফলে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করতে আসছি। মেয়ের বয়স কম এটা আমার জানা ছিলনা। (১০ আগষ্ট) বুধবার কোর্টের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও জানান তিনি।’
ওই কর্মকর্তার সঙ্গে বরযাত্রী হিসেবে আসা কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ও নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘তিনি তাঁর এক আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াতের কথা বলে আমাদেরকে রৌমারীতে নিয়ে আসেন। পরে দেখি তিনি বিয়ে করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। এসময় আমাদের দু’জনকেই বিয়ের সাক্ষী হতে বলেন। আমরা সরকারি কর্মকর্তা, বাল্য বিয়েতে সাক্ষী হতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সাথে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এসময় রৌমারী সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালুর সহযোগিতায় আমরা ঘটনাস্থল থেকে সরে আসি।’

ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদরে ৩০শতক জমিতে বাড়ি করে দেবেন। ১০ভরি স্বর্ণাঙ্কারসহ মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে আমার কোমলমতি মেয়েকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সুবাদে তার প্রথম স্ত্রী’র ভূয়া অনুমতি সনদসহ দু’জন লোককে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসেন। এসময় গ্রামবাসীর সঙ্গে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।’

এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাণী শংকৈল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা দু’দিনের ছুটিতে রয়েছেন। এঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান ওই তিনি।’

 

Manual4 Ad Code

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews