বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সোমবার রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ব্যাপক পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ২৪টি পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (ভারতের এসবিএল এনার্জি লিমিটেড, নাগপুরে প্রস্তুতকৃত) বিস্ফোরক, ২৩টি ডিটোনেটর, ১৫ মিটার ডিটোনেটর কর্ড এবং ৩ টি পাইপ গান। বিশেষজ্ঞদের মতে ৩০০ ফিট মাটির নিচে থেকেও একটি ডিটোনেটর বিষ্ফোরণ ঘটালে মুহূর্তে যেকোন ভবন গুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে দুষ্কৃতিকারী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কেন্দ্রে হামলা চালানোর জন্য মারনাস্ত্রগুলো মজুত করা হচ্ছিল।
অবৈধ বিষ্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে বড়লেখার ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়স্থ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিজিবি স্থাপিত বেইজ ক্যাম্পে প্রেস কনফারেন্স করেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আতাউর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি সদর দপ্তরের মেজর মারুফ ও বিজিবি-৫২ ব্যটালিয়নের সহকারি পরিচালক মাহফুজুর রহমান।

প্রেস কনফারেন্সে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনাযক লে. কর্ণেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে বড়লেখা উপজেলার নিউ পাল্লাথল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম-এর কাছ দিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে- এমন তথ্য পায় বিজিবি। খবর পেয়ে ব্যিাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল এবং বড়লেখা উপজেলার নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প (ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে মেজর এম জাহিদের নেতৃত্বে আরেকটি টহল দল যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। পরে সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম থেকে আনুমানিক দুই থেকে তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের উচ্চ বিস্ফোরক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঘটনাটিকে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন আরো জানান, বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।