বিশেষ প্রতিনিধি :
বড়লেখায় বিজিবির টহল বাহিনীর সদস্যদের মব সৃষ্টি করে অপদস্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে চিহ্নিত ভারতীয় মহিষ ও মানব পাচারকারি চক্র। মঙ্গলবার ভোরবেলা বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিজিবি বিওসি টিলা বিওপি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে বিওসি কেছরীগুল এলাকা থেকে ভারতীয় অবৈধ মহিষের একটি বড় চালান পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিওসি টিলা বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহলদল তৎপর হয়। হাবিলদার আলভার্ট সাংবার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টহলদল ডিমাইবাজার ও বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা চৌমুহনী এলাকায় টহল জোরদার করে। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পাখিয়ালা পয়েন্টে ১৬/১৭ বছরের কেছরীগুল এলাকার এক কিশোরকে মোটরসাইকেলে বসে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সন্তোষজনক কোনো জবাব দেয়নি। এসময় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন হেফাজতে নিয়ে যাচাই করলে দেখা যায় ডায়ালে কেছরীগুল এলাকার একজন চিহ্নিত চোরাকারবারির নম্বর রয়েছে। বিজিবির সন্দেহ হয় পাচারকারিরা তাকে সোর্স হিসেবে এখানে পাঠিয়ে রেখেছে। বিজিবির জেরায় জানিয়েছে সে শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা। একপর্যায়ে ওই মহিষ পাচারকারি নবাব ২০/২৫ জন লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজিবির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। সে বিজিবিকে চার্জ করতে থাকে কেন ওই ছেলের মোবাইল তারা নিয়েছে। বিজিবি সদস্যদের আঙ্গুল উচিয়ে নানা হুমকি-ধমকি ও টহল দলের প্রধান হাবিলদার আলভার্ট সাম্বাকে শিশু বলাৎকার বানিয়ে অপদস্থ ও মবসৃষ্টি করে হেনস্থা এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা কিশোর ছেলের মোবাইল ফেরত দিয়ে ফিরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ফজরের নামাজের পর কেছরীগুলের কিশোর ছেলে মোটরসাইল নিয়ে ২ কিলোমিটার দূরে পাখিয়ালা চৌরাস্তা পয়েন্টে কেন থাকবে। কেনই বা তার মোবাইলে একজন চোরাকারবারির নম্বর ডায়ালে থাকবে। আর কেনই বা কেছরীগুল এলাকার একজন ভারতীয় অবৈধ মহিষ ও গরু পাচারকারি এখানে আসবেন এবং ওই ছেলের পক্ষ নিয়ে বিজিবির সাথে দেনদরবার করবেন। ঘটনাক্রমে প্রমাণ হয় মহিষের চালান যাওয়ার খবরটি বিজিবি জেনে যাওয়ায় পাচারকারিরা ভিন্ন চক্রান্তের অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিজিবিকে হুমকি-ধমকি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে ভিন্ন রাস্তায় চোরাই মহিষের চালান নিয়ে গেছে।
বিজিবি বিওসি টিলার হাবিলদার আলভার্ট সাংবা জানান, মহিষ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ সদস্যের টহলদল নিয়ে তিনি ভোর পাঁচটার দিকে ডিমাই বাজার, কেছরীগুল ও বড়লেখা পাখিয়ালা চৌরাস্তা পয়েন্ট এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। কেছরীগুল এলাকার দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরকে মোটরসাইকেল নিয়ে বসে থাকতে এবং ফোনে কথা বলতে দেখে সন্দেহ করেন। মোবাইল চেকিং করে দেখতে পান একজন পাচারকারির সাথে সে কথা বলেছে। জেরার একপর্যায়ে বলেছে সে শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা এবং তার নাম সাব্বির, দশম শ্রেণির ছাত্র। তখন নিশ্চিত হন সে ওই মহিষ পাচারকারি নবাবের সোর্স। কিছুক্ষণ পর ওই পাচারকারি ঘটনাস্থলে এসে বিজিবির সাথে চরম অসদাচরণ করেন এবং নানা তকমা লেপনের অপচেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোন ফেরৎ দিয়ে বিজিবি সদস্যদের নিয়ে তিনি ক্যাম্পে চলে যান। বিষয়টি তিনি বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নকে অবহিত করেছেন।