ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাধীন গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও তুমুল সংঘর্ষে পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা চলা এ সংঘর্ষ স্থানীয় জনজীবন অচল করে দেয়। অবশেষে পুলিশ ও পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে সিএনজি অটোরিকশা রাখতে গেলে চালক ছাদিক মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। গ্যারেজে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাই মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তকিপুরসহ দুই গ্রামের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্ত কেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়। গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ ও ছাতক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দু’পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়। পথচারীরা জীবন বাঁচাতে এলাকা থেকে দিকবিদিক দৌড়াতে শুরু করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।###