বড়লেখা প্রতিনিধি:
আত্মগোপনে থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বড়লেখার সীমান্ত এলাকায় অবস্থানকালে জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর উগ্রবাদী হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারি, নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র সক্রিয় সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরিচ্যুত সেনাসদস্য মো. রাহেদ হোসেইন মাহেদ (২৩)-কে বড়লেখা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা সতর্কতামূলক অভিযানের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে (১৪ মে) উপজেলার সীমান্তবর্তী বোবারথল ষাটঘরি দুর্গম এলাকার একটি উঁচু টিলা হতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। মধ্যরাতে বড়লেখা থানা পুলিশ গ্রেফতার উগ্রপন্থী ও চাকুরিচ্যুত সেনা সদস্য মো. রাহেদ হোসেইন মাহেদকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নিকট হস্তান্তর করেছে। সে ডিএমপির শাহবাগ থানার ২ ফেব্রুয়ারি দায়েরকৃত সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ সংশোধনী এর ২০১৩ ৮/৯/১০/১৩ মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
গ্রেফতার মো. রাহেদ হোসেইন মাহেদ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামের নূর মিয়া ও মোছা. সাফিয়া খানমের ছেলে।

পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরিচ্যুত সদস্য মাহেদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী আবু বক্কর আবু মোহাম্মদের সঙ্গে মাহেদের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
এ অবস্থায় ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো একটি চিঠিতে জাতীয় সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা করে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। দুই পৃষ্ঠার চিঠির উপরিভাগে ‘গোপনীয়’ লেখা থাকলেও এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মাহেদ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার দুর্গম বোবারথল ষাইটঘরি এলাকায় বিশেষ অভিযানে নামে। প্রায় ১২ ঘণ্টা অভিযান চালানোর একপর্যায়ে বিকেলের দিকে একটি টিলা থেকে মাহেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এসময় তার হেফাজত থেকে পাসপোর্ট, আইডিকার্ডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান শুক্রবার দুপুরে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাহেদ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং বড়লেখা উপজেলার দুর্গম বোবারথল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের একপর্যায়ে একটি টিলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপির শাহবাগ থানার একটি সন্ত্রাস ও নাশকতা মামলার সে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মধ্যরাতে মাহেদকে সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।