এইবেলা, বিপনন :: “সারাবেলা” নামক ফেইসবুক পেইজ পোর্টাল থেকে বিগত ০৬ জুন, ২০২৬ তারিখে “কাবিননামা সংশোধনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, কুলাউড়ার কাজীর বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীদের ক্ষোভ” শীর্ষক শিরোনামের প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচরে এসেছে। যাহা একেবারেই মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপণোদিত তথ্য এর ভিত্তিতে আমিসহ স্থানীয় এলাকার অনেক ম্যারিজ রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। উক্ত রিপোর্টটি “আমরা সবাই কুলাউড়াবসী” ফেইসবুক পোর্টালে সংযুক্ত করে প্রকাশ করেছে। উক্ত প্রকাশিত অসত্য সংবাদটি দ্বারা আমার সুনাম ও সম্মানহানী হয়েছে।
উক্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বটে। বাস্তবে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য বটে।
এমতাবস্থায় উক্ত রিপোর্টের অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে উহার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
প্রকৃত সত্য যে, প্রকাশিত সংবাদের তথ্য সরবরাহকারীর অনৈতিক দাবীর প্রেক্ষিতে কাবিননামা সংশোধনের প্রস্তাবে আমি রাজি না হবার কারণে আমার বিরদ্ধে ক্ষুব্ধ ও ক্ষীপ্ত হয়ে এরূপ জঘন্য ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আপনাকে ভূল বুঝিয়ে আপনার পোর্টালে উক্তরূপ রিপোর্ট প্রকাশ করিয়েছেন এবং যাদ্বারা আমার সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত সুমাম, মান -মর্যদা নষ্ট ও হানী করার একটি হীন অপ-চেষ্টা করেছেন মাত্র। আমি আবারও এরূপ অসত্য রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আপনার অবগতির জন্য আরও জানাচ্ছি যে, বর্তমান সময়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কোনো নিকাহনামা সংশোধন করার বিধান নেই। বিষয়টি রেজিষ্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূকে অবগত করেছেন। আরও প্রকাশ যে, বিবাহ সম্পাদনর সময়ে বর-কনে পক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যাদি প্রদত্ত ডকুমেন্টের আলোকে সরবরাহকৃত নিকাহনামা প্রতিলিপি ফরমে বা মূল ভলিয়ম বুকে লিপিবদ্ধ করা হয়।
আরও উল্লেখ্য যে, বিবাহের পক্ষরা বিবাহ পরবর্তী সময়ে নিজেরাই তাদের নিকাহনামায় তাদের কর্তৃক পূর্ব প্রদত্ত ও ভলিয়মে লিপিবদ্ধ তথ্যদির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের মনগড়া নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্যাদি দিয়ে যেমন এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মসনদ প্রভৃতি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তৈরী করে থাকে যাহা পরবর্তীতে নিকাহনামার সাথে অসামঞ্জস্য তৈরী হয়। এ বিড়ম্বনার দায় নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারগণের নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে পক্ষগণের কৃত নিজনিজ দায়। আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায় পক্ষগণ তাঁদের নিজেদের নিকাহনামাকে নিজেরাই তেমন একটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু যখন কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় তখন তাঁদের দৌঁড়ঝাঁপ দেয়া শুরু হয়ে যায়। তখন এক্ষেত্রে অনেকসময় অনেক পক্ষগণ অন্যায়ভাবে ভলিয়মে কাঁটাছেঁড়া করে সংশোধিত নিকাহনামা প্রস্তুত করে দেবার জন্য নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারগণের উপর প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করে থাকেন। যদিও পূর্বে কিছুকিছু নিকাহনামা সংশোধন করা যেতো। কিন্তু বর্তমানে উপযুক্ত কর্তৃক্ষের আদেশ ছাড়া এ সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে অপারগতা প্রকাশ করলে পক্ষগণ বাহিরে গিয়ে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের উপর ক্ষেপে গিয়ে মিথ্যা ও ভূল তথ্য প্রকাশ করে মানহানি করার চেষ্টা করে থাকেন। কেউ কেউ নানান অনৈতিক উপায়ে প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে শুরু করে, যা চরম দুখ:জনক। এগুলো আমরা নিকাহ রেজিস্ট্রারগণ সহ্য করে আসছি।
নিবেদক-
কাজী খন্দকার ফখরুল ইসলাম
নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার : ১নং ও ০৭নং ওয়ার্ড, কুলাউড়া পৌরসভা।
থানা: কুলাউড়া, জেলা: মৌলভীবাজার।