বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখায় ঋণের বোঝায় হতাগ্রস্থ হয়ে বিষপানে গুরুতর আহত যুবক জাকির হোসেনের অবশেষে মৃত্যু ঘটেছে। রোববার দুপুরে সিলেটের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তিনি মারা যান। তবে, বিষপানে নিহত যুবকের পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করতে চাইলে পুলিশ এতে সম্মত হয়নি।
সোমবার দুপুরে মরদেহের ময়নাতদেন্তর জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
নিহত জাকির হোসেন (২৭) উপজেলার বোবারতল দক্ষিণ গান্ধাই গ্রামের মৃত মস্তাব আলীর ছেলে। তার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্তা।
জানা গেছে, জাকির হোসেন হোসেন বিভিন্ন কারণে প্রচুর টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। ঋণের বোঝায় প্রায় সময় তিনি হতাশাগ্রস্থ থাকতেন। শনিবার (২০ জুন) সকালে পাশ্ববর্তী বোবারতল মোড়াগঞ্জ বাজার থেকে চিনি আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। চিনি নিয়ে বাড়ি ফিরে বুকে ও পেটের ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই বমি শুরু হয়ে শরীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে পরিবারের লোকজন তাকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে অবস্থান কোনো উন্নতি হয়নি। রোববার সেখান থেকে তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার জাকির হোসেনকে মৃত ঘোষনা করেন। রোববার রাতেই স্বজনরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে থানায় উঠেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করতে চাইলে পুলিশ তাতে সম্মত না হয়ে লাশ উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, স্বজনরা নিহতের মৃতদেহ সিলেট থেকে বাড়ি নেওয়ার পথে থানায় আসেন। তাদের দাবী ঋণগ্রস্থ হওয়ায় হতাশা জনিত কারণে বিষপানে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তারা লাশ দাফন করতে চান। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।