বড়লেখা প্রতিনিধি:
জুড়ীতে পরকিয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রিতা রুদ্র পালকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী মিন্টু রুদ্র পাল (৩৮)। হত্যাকান্ডের একঘন্টার মধ্যে পালানোর চেষ্টাকালে একটি দুর্গম উচু টিলা থেকে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার ও লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের ১৩ বছর বয়সি একটি মেয়ে ও ১০ বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পূর্ব-জুড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠানে এ নির্মম হত্যাকান্ডটি ঘটেছে। চোঁখের সামনে বাবার হাতে মায়ের নির্মম খুনের ঘটনায় দুই শিশুসন্তান কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। তাদের আর্তনাদে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠেছে। এলাকায় নেমেছে বিষাদের ছায়া।
শুক্রবার সকালে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই চন্দন রুদ্র পাল বৃস্পতিবার রাতে থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামি মিন্টু রুদ্র পালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহ নিয়ে রিতা রুদ্র পাল ও মিন্টু রুদ্র পালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজেদের বাড়ির উঠানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে স্বামী মিটু রুদ্র পাল ধারালো দা দিয়ে অতর্কিতভাবে স্ত্রী রিতা রুদ্র পালকে কুপাতে থাকে। এতে রিতার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। এরপর মিটু রুদ্র পাল পালিয়ে পার্শবর্তী দুর্গম একটি টিলায় আত্মগোপন করে।
জুড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনার একঘন্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দুর্গম টিলা থেকে স্ত্রী হত্যাকারী স্বামী মিটু রুদ্র পালকে গ্রেফতার ও নিহতের লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের ভাই থানায় হত্যা মামলা করেন। শুক্রবার সকালে নিহতের লাশর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে এবং বিকেলে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।