বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পারিবারিক কলহের জেরে পিতাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যাকারি সৌদিআবর ফেরত ছেলে মো. ফয়াজ মিয়াকে গ্রেফতার করেছে জুড়ী পুলিশ। শনিবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি ফয়াজ মিয়া। সে জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রিগাঁও গ্রামের সুলতান আলীর ছেলে।
জানা গেছে, ২৬ জুন রাতে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ফয়াজ মিয়া তার বাবা সুলতান আলীকে পেছন দিক থেকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সুচতুর ছেলে ফয়াজ মিয়া বাবাকে দুর্ঘটনায় চালিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর কৌশলে পালিয়ে যায়। পরদিন দাফনের সময় তার অনুপস্থিতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ নিশ্চিত হলে মরদেহ দাফন না করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়। নিহতের অপর ছেলে সাহেদ মিয়ার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কদমতলী থানার পাগলা ওয়াসা এলাকায় শুক্রবার রাতে অভিযান পরিচালনা চালিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় জুড়ী পুলিশ ফয়াজ মিয়াকে গ্রেফতার করে পরদিন শনিবার মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে।
জুড়ী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পর আসামি ফয়াজ মিয়া পালিয়ে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।