বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী সীমান্তে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মূখেও বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এক সীমান্তে বিজিবি ও সীমান্তের বাসিন্দারা পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফ অন্য সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবির চোঁখে ধুলো দিয়ে বিএসএফ জুড়ীর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইন করে। সীমান্ত সূত্রগুলো জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ তাদেরকে পুশইনের উদ্দেশ্যে বড়লেখা ও জুড়ী সীমান্তের জিরো লাইনের ওপারের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছিল। অবশেষে পুশইন করলেও ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাতেই বিজিবি পুশইনকৃত অবৈধ অনুপ্রবেশকারি সেই ১০ জনকে অন্য বর্ডার দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফ তাদের ঠেলে পাঠায়। সীমান্তবর্তী স্থানীয় জনতার সহায়তায় বিজিবি তাদের আটক করে। রাতে দুইটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে বিজিবি পুশইনকৃতদের গোয়ালবাড়ি এলাকা থেকে ফুলতলা সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের ব্যাপারে কোনো কিছু জানতে পারেননি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ি আটককৃতরা হলেন- রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) এবং সালমা খাতুন (২৭)।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান শুক্রবার দুপুরে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিএসএফ বড়লেখা উপজেলার পাল্লাথল, নিউ পাল্লাথল, লাতু, গান্ধাই, বোবারথল, উত্তর ষাটঘরী এবং জুড়ী উপজেলার শিলুয়া, কচুরগুল ও ফুলতলা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অবস্থানের কারণে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরে জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১০ জনকে পুশইন করলে বিজিবির প্রতিরোধের মূখে তারা ভারতে ফেরত যেতে বাধ্য হয়।
তিনি আরো বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের বিষয়ে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও তৎপর রয়েছে।