বড়লেখা প্রতিনিধি:
৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে আপনজনদের কাছে ফিরতে বিমানে অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে ফাঁড়ি জমানো ফখরুল ইসলামের মৃতদেহ দেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন নিহতের বাবা-মা ও স্ত্রী।
বুধবার ফখরুল ইসলামের স্ত্রী হাফসা খানম সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। এদিকে খোঁজ খবর নিতে নিহতের বাড়িতে স্বজনদের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। স্বজনদের জড়িয়ে বাবা-মা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এখন তাদের একটাই চাওয়া কখন বাড়িতে আসবে ফখরুলের লাশ। ফখরুল ইসলাম বড়লেখা পৌরসভার মহুবন্দ এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।
নিহত ফখরুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফখরুল ইসলাম প্রায় ৭ বছর পর ইটালি থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে ১৭ জুন তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ওঠেন। বিমানে আকস্মিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমানটি জর্জিয়ার (দুবাইয়ের পার্শবর্তী ছোট্ট দেশ) তিবিলিসি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

বৃহস্পতিবার নিহত ফখরুল ইসলামের বাড়িতে তার স্ত্রী হাফসা খানম জানান, বর্তমানে মরদেহ উক্ত হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। স্বামীর লাশ দেশে আনার মতো আর্থিক অবস্থা তাদের পরিবারের নেই। সরকারিভাবে মরদেহটি দেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিলে হয়তো শেষবারের মতো স্বামীর মূখ দেখা হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে, তবে সেখান থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে পারবেন।
ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, ঘটনাটি খুবই হৃদয় বিদারক। এব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা এখনও তিনি পাননি। সরকারি নির্দেশনা পেলে পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।