ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ছয়টি মোটর, একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা উদ্ধার এবং চারজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোটরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক থানার একটি দল রেলওয়ে কলোনী এলাকার সুরমা নদীর তীরে অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে রমজান আলীর ভাঙারির দোকান থেকে ছয়টি চোরাই মোটর উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা জব্দ এবং চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— তোফাজ্জল হক (২২), পিতা নিজাম উদ্দিন; জুবের মিয়া (২৩), পিতা মৃত আনিছুর রহমানসহ দুজনের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জ।
ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউপির গণেশপুর ছড়ারপাড় গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার পুত্র আবু বক্কর (২২),
আবু বক্কর (২২) ও ছাতক পৌর শহরের বাগবাড়ি গ্রামের মৃত আমির মিয়ার পুত্র রমজান মিয়া (৪০), এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস পূর্বপাড়া গ্রামের কাটাগাং নদীর তীরে অবস্থিত বশির কোম্পানির বালুর স্টক থেকে মোটরগুলো চুরি করা হয়।
পরে ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চোরাই মোটর গুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাতকের রেলওয়ে কলোনী এলাকার রমজান মিয়ার ভাঙারির দোকানে নিয়ে আসা হলে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ তাদের আটক করে।
পুলিশ আরও জানায়, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকার সুরমা ও পিয়াইন নদীর দুই তীরজুড়ে থাকা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্রাশার মিল ও বালুর স্টক থেকে মোটর, কনভেয়ার বেল্ট, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অভিযানে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়েছে, যা চোরাই মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছাতক নৌ পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মালামাল যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
এব্যাপারে ছাতক নৌপুলিশের ইনচাজ আনোয়ার হোসেন এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,চুরি ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। মামলা দায়েরের পর আটক চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।###