বড়লেখায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ- মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেফতার দাবী – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রীডম’র আয়োজনে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ বড়লেখায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ- মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেফতার দাবী শ্রীমঙ্গলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পরিচিতি সভা পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে! সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছেছে নিজ গ্রামে : চলছে শোকের মাতম বড়লেখায় বিদেশি অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক কুলাউড়ায় এসসিপির দু’গ্রুপে মারামারি: জেলার বিতর্কিত নেতা এহসান জাকারিয়াসহ ৫ জন আটক   ছাতক সিমেন্ট কারখানার রোপ লাইন রক্ষায় এমপি মিলনের কঠোর নির্দেশ কুড়িগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত লন্ডনে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং: ৫০ হাজার পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি

বড়লেখায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ- মামলা গ্রহণ ও জড়িতদের গ্রেফতার দাবী

  • শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

Manual6 Ad Code

বড়লেখা প্রতিনিধি:

বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে বলে অভিযোগ তুলেছে তার পিতা-মাতাসহ পিতৃপক্ষের স্বজনরা। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর মুন্নির মরদেহ বাথরুমের কাঠের ভিমের সঙ্গে ঝুলিয়ে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করছে না বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বড়লেখা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও স্বজনরা।

Manual3 Ad Code

তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির খালাতো ভাই মাছুম আহমদ। লিখিত বক্তব্যে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, হত্যা মামলা গ্রহণ এবং হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

Manual4 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৩ সালে উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গালিগালাজসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। বিষয়গুলো মুন্নি নিয়মিত তার বাবা-মা ও স্বজনদের জানাতেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি নির্যাতন সহ্য করেই সংসার করছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠকও হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মুন্নির ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে ওই টাকা চাওয়া হয়। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হলেও চাপ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বরং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আরও টাকা এনে দিতে তাকে চাপ দেওয়া হতো। একপর্যায়ে মুন্নি তার বাবা-মাকে জানান, ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি তাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারেন। ২১ আগস্ট তাদের সঙ্গে মুন্নির বিরোধের একপর্যায়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ভিডিও ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তার বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরে এক মুরব্বি ফোন করে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানান।

এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতনিধি পরিচয়ে একজন ফোন করে মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের ভিমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাথরুমের দরজাও খোলা ছিল। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে জানান, মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন।
তবে, পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মুন্নি নির্যাতনের কথা বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন। তাই হঠাৎ তার আত্মহত্যার ঘটনা সন্দেহজনক। মরদেহ নামানোর পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলেও তারা দাবি করেন। এসব আঘাতের ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুন্নির মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। ওই ফোনে নির্যাতনের ভিডিও, ক্ষুদে বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফোনটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে বলে তারা মনে করেন।

আরও অভিযোগ করা হয়, মুন্নির মরদেহ থানায় নেওয়ার পর কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ময়নাতদন্ত না করতে চাপ দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের দাবির পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যাতে কোনো ধরণের প্রভাবের কারণে প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও, মুন্নির মোবাইল ফোন, ক্ষুদে বার্তা ও কলের তথ্যসহ সব আলামত সংরক্ষণ এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়।

Manual3 Ad Code

মুন্নির বাবা-মা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ন্যায়বিচারের আশায় তারা বিভিন্নজনের কাছে যাচ্ছেন। মুন্নির মৃত্যু প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান শনিবার বিকেলে জানান, লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্ত ও থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!