মৌলভীবাজার আদালত প্রতিবেদক:
বড়লেখায় জোরপূর্বক প্রতিবন্ধী এক যুবতিকে ধর্ষণে প্রসব নেওয়া সেই পুত্র সন্তান ও ধর্ষিতা ১২ বছরেও পায়নি পুত্র ও স্ত্রীর মর্যাদা। আদালতের ডিএনএ টেস্টের আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন পলাতক থেকে সোমবার আদালতে হাজির হলে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্র্যুনাল (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) সেই ধর্ষক জালাল উদ্দিনকে আবারও কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। জালাল উদ্দিন বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন প্রতিবন্দ্বী এক যুবতীকে ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী ঘরে ঢুকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ঐ বছরের ২৮ নভেম্বর রাতে ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী যুবতী এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বিচার সালিশে একাধিকবার ধর্ষক জালাল উদ্দিন নির্যাতিতাকে বিয়ে করতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে ধর্ষিতাকে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতি দেয়নি। অবশেষে ধর্ষিতার বড়বোন সুফিয়া বেগম ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ধর্ষক জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত-২০০৩ এর ৯(১) ধারায় থানায় মামলা (জি/আর-০৮/১৫) করেন। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জালালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এরপর থেকেই ধর্ষক জালাল উদ্দিন আত্মগোপন করে।
অবেশেষে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর দুপুরে বড়লেখা থানার তৎকালীন এসআই অমিতাভ দাস তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুজানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর জামিনে বেরিয়ে জালাল উদ্দিন মামলা তোলে নিতে বাদিকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এমনকি তার ধর্ষণে জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তানকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে ওই শিশুর খালা ও মামা তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে লালন পালন করতে থাকেন। ছেলেটি বর্তমানে ১২ বছরের বালক।
মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্র্যুনাল (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট বকশী জোবায়ের আহমদ আসামি জালাল উদ্দিনকে সোমবার বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।