বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি, আইনি সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে উপজেলার ঘোলসা গ্রামের এক ভুক্তভোগি পরিবার বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি সোনাহর আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার আব্দুস সালামের সঙ্গে তাদের পরিবারের নানা বিষয় বিরোধ চলে আসছে। তার অভিযোগ, এ বিরোধের জের ধরে তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সর্বশেষ তাদের বিরুদ্ধে সি.আর মামলা নং-৬৮৬/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে।
উক্ত মামলায় তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিজ সীমানার ভূমিতে থাকা গাছ চুরি করে কেটে বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার দাবি, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।
সোনাহর আলীর ভাষ্যমতে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজ নিজ ভূমির চর্তুসীমায় নিজেদের লাগানো গাছ বিক্রি করেছেন। অন্যের জমিতে প্রবেশ করে গাছ কাটা বা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা, জমির সীমানা এবং গাছের প্রকৃত মালিকানা সরেজমিনে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে কোনো পক্ষের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সোনাহর আলী বলেন, এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার নথিপত্র ও আদালতের রায় পর্যালোচনা করলে বিরোধের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাই বর্তমান মামলার পাশাপাশি পূর্বে দায়ের করা মামলাগুলোর নথি ও সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় পর্যালোচনারও দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সোনাহর আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের প্রতি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; বরং আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগি এখলাছ আলী, মহবাবত আলী, নজরুল ইসলাম, আয়াজ আলী, কয়েছ উদ্দিন, ইমরান হোসেন প্রমুখ।