শাহেদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হোক – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে – যুগ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ কুলাউড়া পৌরসভায় আইইউজিআইপি প্রকল্প বাস্তবায়নে কচ্ছপ গতি জনদূর্ভোগ চরমে বৃটেনের কার্ডিফ জালালিয়া মসজিদের নতুন কমিটি গঠন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের হিসাব রক্ষকের অবসর গ্রহণে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নীরবতা নয়, চাই সম্মিলিত উদ্যোগ গোলাপগঞ্জে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ভাঙচুর ছাতকে পার্কিং করা ট্রাকের পেছনে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ২ রৌমারীতে গরুর নিলামের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ  বড়লেখায় ইউপি সদস্য সোনামের শপথ গ্রহণে নেই কোনো আইনি বাধা- আইনি লড়াইয়েই মেয়াদ পার! কমলগঞ্জে বন বিভাগ ও বিজিবি’র যৌথ অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ

শাহেদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হোক

  • শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

Manual7 Ad Code

অ আ আবীর আকাশ

১.
শাহেদ, কখনো শাহেদ করিম। দেশ ও বহির্বিশ্বেও প্রতারক খ্যাতি পাওয়া এক লোকের নাম। প্রতারণা, চিটিং,টাউট,বাটপার, ঠক, ধান্দাবাজ, সেলফিবাজ, মিথ্যাবাদী, চাঁদাবাজ এমন কোন খারাপ তকমা বাদ নেই যা তার নামের সাথে যায়নি। গরীব অসহায় মানুষের উন্নয়নের নামে রিক্সা থেকে চাঁদা তোলা, ব্যবসার নামে বিভিন্ন জনের সাথে প্রতারণা করা, হাসপাতাল দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চালকের সাথে চুক্তি করে মানুষের গায়ে গাড়ি লাগিয়ে দিয়ে আবার তাকে শাহেদের হাসপাতালে ভর্তি করাসহ সকল খাতেই শাহেদ প্রতারণার জাল ছড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যবসার খাতিরে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগে সরকারি-বেসরকারি রাজনৈতিক প্রশাসনিক ব্যক্তিদের কাছে ঘেঁষে সে ধান্দাবাজি করে। ছবিগুলোকে পরবর্তীতে তার প্রতারণার কাজে লাগিয়েছে খুব সহজে।

রিক্সা শ্রমিকের মত খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ধনী ব্যক্তিদের পর্যন্ত ছাড়েনি প্রতারক শাহেদ। এমনকি তার অপকর্ম থেকে জন্মদাতা বাবাও ছাড় পায়নি। ১০ বছর ধরে মামলার পরোয়ানা নিয়ে কিভাবে দাম্ভিকতা দেখিয়েছিল তা আমার কাছে পুরোটাই রহস্য মনে হচ্ছে।

প্রথম শ্রেণীর লোকদের থেকে সে যে সুযোগ-সুবিধা ফায়দা লুটেছে, প্রশ্ন হচ্ছে -সে কি তাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করত? না। অবশ্যই তাদের নারী দিয়েই খুশি করে এতসব ফায়দা লুটেছে। একজন বেসরকারি ব্যক্তি পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে কিভাবে চলে? কেনোই বা তার পুলিশ প্রটেকশন দরকার? কি করে মন্ত্রীদের সাথে উঠবস হয়? কি করে সরকারি হাসপাতালের বরাদ্দ তার ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতালে যায়? এসবের ইঙ্গিত বা জবাব তো শাহেদের গাড়ীতেই ছিলো। একদিন এক সুন্দরী তরুণী তার পিএস পরিচয় দিয়ে বহন করে শাহেদ নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সাপ্লাই দিয়ে এতসব ফন্দিফিকির হাসিল করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ডিজি ও পরিচালককে বরখাস্ত করে শীগ্রই স্বাস্থ্যখাতকে বাঁচাতে হবে। যেভাবে এই মন্ত্রী,ডিজি ও পরিচালক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন তাতে করে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যখাত নাজুক পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।

Manual7 Ad Code

চিঠি চালাচালির দরকার কি? সরাসরি মন্ত্রী ডিজি ও পরিচালককে তাদের দায়িত্ব অবহেলা, অসৎ লোভ, অদক্ষতা আর দুর্নীতির দায়ে অব্যাহতি দেয়া যায়। কিন্তু সরকার কি তা করবে?

যেসব মন্ত্রী এমপি আমলা কামলা রাজনৈতিক নেতা শাহেদকে সুবিধা দিয়েছে, আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, তার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাদের প্রত্যেককে স্ব -স্ব দায়িত্ব থেকে দ্রুত অপসারণ করে নতুন দক্ষ কর্মঠ সৎ নিষ্ঠাবান লোক নিয়োগ দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। এখানে চিঠি চালাচালির কি দরকার? ফটোসেশনেই প্রমাণাদি রয়েছে।

Manual1 Ad Code

২.
আমরা এমন এক অপদার্থ মানুষের দেশে বাস করি, যারা মৃত্যু যাত্রী নিয়ে খেলা করে, টাকা কম হলে হত্যা করে, লোভ দেখিয়ে যানবাহনের চালককে দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে মানুষের শরীরের সাথে গাড়ি লাগিয়ে ধাক্কা দিয়ে আহত করে শাহেদ ও শাহেদ এর মত এরকম অসৎ দুশ্চরিত্র নোংরা মন মানসিকতা সম্পন্ন বহু ব্যক্তি রয়েছে যাদের হাসপাতাল ক্লিনিক প্যাথলজি এসবে অপকর্ম হয়, ম্যানেজের হাতিয়ার হিসেবে যারা নারী দিয়ে স্বার্থ হাসিল করে, জেনেশুনে অনুমোদনহীন হাসপাতাল ক্লিনিক প্যাথলজির সাথে চুক্তি করে, নারী দিয়ে ব্যবসা করে,আবার এসব অপদার্থ নোংরা দুশ্চরিত্র প্রতারক চোর বাটপার প্রতারককে একশ্রেণীর মন্ত্রী-এমপি প্রশাসনিক কর্তা রাজনৈতিক নেতা আশ্রয় দেয়। আমরা এ রকমই একটি অসৎ আত্মকেন্দ্রিক অমানুষের দেশে বাস করি! ছি: ছি: ছি: ওয়াক! ওয়াক! থু :থু:। ধিক! জানাই আমার জন্মস্থান বাংলাদেশে এমন সব নজিরবিহীন কান্ড কীর্তনের নায়ক যারা তাদের।

শাহেদ গ্রেপ্তার হয়েছে বাংলাদেশ সরকার তথা জনগণের নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতার কারণে।চাপে পড়ে তাকে শেষ পর্যন্ত ধরতেই হয়েছে। নয়তো বিগত ১০বছর গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নিয়ে সাহেদ কিভাবে দাম্ভিকতা দেখিয়ে চলেছে? কিভাবে সাহেব নিজেকে মেজর, কখনো কর্নেল বা ক্যাডেট কলেজের ছাত্র, কখনো প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, কখনো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পদবীর পরিচয় দিয়ে এতো এতো অপকর্ম করেছে? দেশে আইন-কানুন ভেঙে পড়েছে নাকি? এন এস আই, ডিজিএফআই, সিআইডি তথা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি করে? আদালতের দেয়া পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও গত ১০ বছর ধরে চোখের সামনেই শাহেদ কিভাবে টেলিভিশন পাড়াগুলোতে টকশো করে বেড়ায়? এসবের উত্তর নেই। সব উত্তর সুন্দরী তরুণীদের কাছে নতজানু হয়ে গেছে। শাহেদ নারীদের দিয়ে, তাদের কাঁধে ভর করে উপরে উঠার জায়গা তৈরি করে ফেলেছে।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে বাঁশ দিয়ে দাঁড় করায় দিয়েছে শাহেদ। ইতালি থেকে যদি কয়েকটি ফ্লাইট ফেরত না আসতো তাহলে তো ভুয়া হাসপাতাল, ভুয়া কাণ্ডকারখানা চালিয়ে আরো কত হাজার হাজার অপকর্ম চালাত শাহেদ! কত শত নারীর যৌবন কাজে লাগিয়ে এই অপদার্থ উঠে যেত উপর থেকে উপরে।

বাংলাদেশের মানুষ শাহেদ ও তার মত অপকর্ম, অনিয়ম দুর্নীতি করে কামানো টাকা সম্পদ- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারের কোষাগারে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকার কি তাকে সে শাস্তি দেবে? অবৈধ উপায়ে কামানো টাকা পয়সা ধন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে? প্রশ্ন রইল।

৩.
করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদ করিম ওরফে মো. শাহেদ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। এমন অবস্থায় বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার পরিচালক লে. ক. আশিক বিল্লাহ বলেছে প্রতারণার জগতে শাহেদ একজন আইডল। প্রতারণার জগতে শাহেদ একজন আইডল। সে প্রতারণাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের ভাবনার অতীত। প্রতারণাকে ব্যবহার করে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঠগবাজি করে কীভাবে এমন একটি পর্যায়ে চলে গেছে, যা একটি অনন্য খারাপ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছে র‌্যাব।

সাংবাদিক, রাজনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে শাহেদের ছবি থাকার বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শাহেদের ছবির বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। কারও সঙ্গে কারও ছবি থাকা মানে এই নয় যে, তিনি তার পৃষ্ঠপোষক। যে কারও সঙ্গে বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মানুষ ছবি তুলতে চাইবেই। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার মানে এই নয় যে, ওই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি শাহেদকে একজন প্রতারক জেনেও তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন কারও সঙ্গে ছবি তোলেন সেটি নেহাদ সৌজন্যবশত। এর পেছনে যদি কারও পৃষ্ঠপোষকতা থাকে, সেটি নিশ্চয়ই তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখবেন।’ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন,‘আমাদের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত ছিল, যাতে সে কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারে, তাই সে দেশ থকে পালিয়ে যেতে পারেনি।’

সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের কাছে আরও অভিযোগ রয়েছে, রিজেন্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জাল সনদ দেওয়া হতো। র‌্যাবের পরিচালক আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। যে সনদগুলো শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে, তা জাল। এই সনদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিজীবন ও শিক্ষা জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

আইন বিষয়ে কোনও ডিগ্রি ছিল না তার। তারপরও ল’ চেম্বার করেছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম। রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে করেছিলেন চেম্বারটি। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে এই বাসায় অভিযান চালায় র‍্যাব।

বাড়িটির কেয়ারটেকার তারা মিয়া বলেন, ‘দুই মাস আগে বাড়ির চার তলার একটি ফ্ল্যাট ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছিলেন শাহেদ। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে শাহেদের লোকজন ফ্ল্যাটটি দেখে যান এবং বাড়ির মালিক ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। চুক্তি অনুযায়ী মাসে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন।’

বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে র‍্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে শাহেদকে। পলাতক অবস্থায় বেশভূষা পরিবর্তন করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে তার চুল সাদা থাকলেও কালো করেন এবং গোঁফ কেটে ফেলেন। এরপর বোরকা পরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার কাছ একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

Manual7 Ad Code

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন হাসপাতালটির মালিক শাহেদ। ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। ৯ জুলাই সাহেদের মুখপাত্র তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে এবং ১৪ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

জানা গেছে, ‘শাহেদ গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। যেমন তিনি গোফ কেটে ফেলেছিলেন, সাদা চুল কালো করেছিলেন। এছাড়া পালানোর সময় তিনি বোরকা পরে ছিলেন।’ ভারতে পালিয়ে তার মাথা ন্যাড়া করার পরিকল্পনা ছিল। ‘নৌকায় শাহেদ একা ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন। তবে শাহেদকে গ্রেপ্তারের সময় নৌকার মাঝি সাঁতার কেটে পালিয়ে যান। শাহেদকে ভারতে পালাতে সাহায্য করছিলেন বাপ্পী নামে এক দালাল।’

Manual4 Ad Code

প্রসঙ্গত, মো. শাহেদের পুরো নাম মো. শাহেদ করিম। বাবার নাম সিরাজুল করিম। সম্প্রতি তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১। গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়।

টেলিভিশন টকশোতে নিজেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে জাহির করতেন বহুমুখী প্রতারণায় অভিযুক্ত এই ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে সব জায়গায় পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয় দিয়ে মো. শাহেদ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও অংশ নিতেন।

৪.
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসএসসি পাস করলেও তারপর আর পড়াশোনা করেননি শাহেদ। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি দুই বছর জেলে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নম্বর রোডে শুরু করেন এমএলএম কোম্পানি। অভিযোগ আছে, বিডিএস ক্লিক ওয়ান নামের ওই কোম্পানির শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে।

এছাড়াও প্রতারণার টাকায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার পাশে গড়ে তুলেছেন রিজেন্ট কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি। এর একটিরও কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই বলে অভিযোগ আছে। আর অনুমোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে শাহেদের বিরুদ্ধে। প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজের কার্যালয়ে একটি টর্চার সেল গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরায় এবং পরদিন মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে হাসপাতাল দুটো সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।♥

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!