কমলগঞ্জে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী সোহরাই উৎসব অনুষ্ঠিত  – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইঞ্জিন বিকল: কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় ৫ ঘন্টা আটকা ছিলো পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো-কুলাউড়ায় নির্বাচনী জনসভায় নওয়াব আলী আব্বাছ “পবিত্রতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে”..জেলা প্রশাসক নওগাঁ এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন সমর্থনে গণসভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত ধানের শীষের পক্ষে বাবার জন্য মেয়ের ভোট প্রার্থনা কুড়িগ্রামে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশিক্ষণের সমাপণী ঢাকা-১১ : কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে নাহিদ ইসলাম আপনাদের জীবন, সম্পদ আর ইজ্জতের চৌকিদার হতে চাই : জামায়াত আমির বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে যা রয়েছে  নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর

কমলগঞ্জে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী সোহরাই উৎসব অনুষ্ঠিত 

  • সোমবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩

Manual3 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ;: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পারুয়াবিল সাঁওতাল পল্লীর মাঠে মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির আয়োজনে সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সোহরাই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২৩ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ পরিচালক (চঃদা:) সিফাত উদ্দিন ।
একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরি সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিনহা, মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির নির্বাহী সদস্য, লেখক-গবেষক আহমেদ সিরাজ, শিক্ষিকা অঞ্জনা সিনহা, গবেষক প্রভাষক দীপঙ্কর শীল, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিত রায়।
উৎসবকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পল্লী হতে চারটি আদিবাসী নৃত্য দলের অংশগ্রহণে ক্ষুদ্র ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির গান ও নাচের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাক মাদলের তালে নিজস্ব সংস্কৃতির নৃত্য উপভোগ করতে অনুষ্ঠানস্থলে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। এতে করে মিলনমেলা বসে ক্ষুদ্র ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মাঝে। মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।
জানা যায়, বাংলাদেশে বসবাসরত সাঁওতালদের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত নিজস্ব আচার, উৎসব ও সংস্কৃতি। জীবন সমস্যা ও শত কষ্টেও তারা উৎসব – আচার,অনুষ্ঠান রীতি প্রথা সংস্কৃতিগুলোকে ধরে রেখেছে।
দারিদ্রতার চাপে সাঁওতাল সংস্কৃতি আজ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তবু এরা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবগুলোকে। মাদলের বাদ্যি আর সাঁওতাল নৃত্যে নিজেকে খোঁজার আনন্দ সত্যি অনন্য। উৎসবে আনন্দ উল্লাসের জোয়ারে তাই ভেসে যায় সাঁওতালদের কষ্টগুলো।
উৎসবটি মূলত ধনসম্পত্তি ও গরু-বাছুর বৃদ্ধির জন্য পালন করা হয়। প্রতি বছর পৌষ মাসে সাঁওতাল গ্রামগুলোতে সোহরাই উৎসবের  আয়োজন চলে ।
সোহরাই উৎসব উপলক্ষে বিবাহিতা নারীরা বাবার বাড়ি আসার সুযোগ পায়। ফলে সাঁওতাল নারীরা সারাবছর অপেক্ষায় থাকে উৎসবটির জন্য। তবে, সোহরাই উৎসবের কোন নির্ধারিত দিন বা তারিখ নেই। পৌষ মাসে, সাঁওতাল গোত্র প্রধান এর উপস্থিতিতে উৎসবের একটি দিন নির্ধারণ করে। সেই নির্ধারিত দিন থেকে পরবর্তী সাতদিন ব্যাপী চলে এই সোহরাই উৎসব।
সাঁওতাল পল্লীর এনজিও কর্মী জেমস সরেন বলেন, দারিদ্রতার কারণে আমরা পড়াশোনা তেমন সম্ভব হয়ে উঠে না। তারই মাঝে কোনভাবে সাংস্কৃতিককে বিভিন্ন আয়োজনে পালন করে থাকি। সোহরাই উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন সাঁওতাল গ্রাম থেকে আগত যুবকরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যগত হাতিয়ার নিয়ে তীর ধনুক প্রতিযোগিতা করা হয়।
এই উৎসবের একটি রীতি হচ্ছে সাঁওতাল মেয়েরা তাদের বাপের বাড়ি যাওয়ার নেমত্তন পায়। এ দিনটি তারা নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে গেয়ে পালন করে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!