বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখায় বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়-টিলা ও কৃষিজমির মাটি পাচারকারী বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে প্রাকৃতিক পাহাড়-টিলা ও কৃষিজমির মাটি কর্তন প্রতিরোধে রাতের আঁধারেও অভিযান চালাচ্ছেন ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী। ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েও যেন থামানো যাচ্ছে না পরিবেশ বিপর্যয়কারি অর্থলোভি এই অসাধু চক্রকে।
জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে পাচারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী। এসময় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে মঈনুল ইসলাম নামক মাটি কর্তনকারিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এর আগে ৫ জানুয়ারি রাতে উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কর্তনের অপরাধে ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত জনৈক মিলন আহমদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর আগে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পৌরসভার পূর্ব-গ্রামতলায় কৃষিজমির মাটি কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. স্বপন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সরেজিমনে উপজেলার দাসেরবাজার, তালিমপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর, সুজানগর, বর্নি-সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় অবৈধ মাটি ব্যবসায়িরা কৃষিজমির মাটি কেটে ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রলিতে পাচার করতে দেখা গেছে। এতে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও পরিবেশের ভারসাম্য। ধুলোবালিতে চরম ভোগন্তি পোয়াচ্ছেন এলাকাবাসি। এছাড়া অবৈধ মাটি পরিবহনকারি যানবাহনের অধিকাংশের নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। লাইসেন্স বিহীন অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এসব অবৈধ মাটি পাচার করতে গিয়ে ঘটাচ্ছে নানা দুর্ঘটনা।
ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ি সরকারি কিংবা ব্যক্তি মালিকাধীন কৃষিজমির মাটি কেটে অন্যত্র পরিবহণ দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধভাবে মাটি কর্তন প্রতিরোধে প্রশাসন খুবই তৎপর রয়েছে। খবর পেলেই তিনি রাতেও অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা করছেন।