
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নামে নয়, বাস্তব অর্থেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়া হবে ওসমানী বিমানবন্দরকে। একবার আমাদের সুযোগ দিন। আপনাদের মালিক হব না। আপনাদের জীবন, সম্পদ আর ইজ্জতের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা চৌকিদারের কাজ করব। আপনাদের চৌকিদার হয়ে পাহারা দেব ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেটবাসীর জন্য সুপেয় পানি পাওয়াই এক আলাদিনের চেরাগের মতো। বসে বসে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা আসলেই ডুবে যায়, ভেসে যায় আবার শুকনা মৌসুমে নদীতে কোনো পানি থাকে না। এই সব সংকট সিলেটের নিত্যদিনের সঙ্গী।
সিলেটের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কিন্তু নামে আন্তর্জাতিক, কাজে নয়। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়, তাহলে সব এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন?
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের তাবা মেলে সামনে আগাতে চাই।” তিনি জানান, বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।
নদী ও পরিবেশ সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও মরে আছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক দেওয়া হয় না। তার পেট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী শাসন নয়নদী বান্ধব বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। সুরমা-কুশিয়ারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায় সেই সুরমা-কুশিয়ারা বানানো হবে।
হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর-বাওর এলাকা থেকে দেশের খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায়—এই ইঁদুরগুলো আর ভাত কাটার সুযোগ পাবে না।
চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।