কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারির অংশ হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও ১৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটের দিন পুলিশ মাঠে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত রিজার্ভ পুলিশ সদস্যও প্রস্তুত রাখা হবে।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের কমলগঞ্জ উপজেলায় ৭৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র তালিকাভুক্ত রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। চা অধ্যুষিত এলাকায় ভোটকে ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। তবে প্রস্তুতির পাশাপাশি রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও সতর্কতা।
বুধবার সকাল থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম উপজেলার ৭৬টি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে এসব সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের দাবি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এবার ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দেবেন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট।’
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সহকারী রিটার্ণিং অফিসার ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।#