এইবেলা নিউজ: :
জুড়ি উপজেলার জালালপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী ফেরদৌস রহমান ও মালু মিয়া, মাখন মিয়া, ইউসুফ আলী গংদের টিলা ভূমির মালিকানা নিয়ে আদালতে চলছে একাধিক মামলা। এর একটি মামলায় প্রবাসির ক্রয়কৃত টিলাভূমির ওপর প্রতিপক্ষের প্রবেশে রয়েছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা।
কিন্তু প্রতিপক্ষের উশৃংখল লোকজন স্থানীয় প্রভাবশালী দুই জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ৭ এপ্রিল রাতের আধারে পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে এক্সকেভেটর দিয়ে জোরপূর্বক টিলা কর্তন শুরু করে। এসময় ভোক্তভোগি প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা বাঁধা-নিষেধ দিয়েও টিলা কাটা বন্ধ করতে পারেননি। অবশেষে ৯৯৯-এ ফোন দিলেও স্থানীয় থানা পুলিশ প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। রাতের আধারে প্রবাসির মামলাধীন টিলা কর্তনের ঘটনায় উপজেলা জুড়ে চলছে তোলপাড় ।
জানা গেছে, জুড়ি উপজেলার জালালাপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. ফেরদৌস রহমানের পরিবারের সাথে পার্শবর্তী লোকদের মধ্যে ভূমির মালিকানা দ্বন্দ্বে আদালতে স্বত্ব মামলা চলছে (যার নং ১১৮/২০২২ ও ৩১৭/২০২৩)। একটি মামলায় প্রবাসি রায় পান। অপর মামলায় আদালত উক্ত ভূমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্ত স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় উশৃঙ্খল প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশনা অমান্য ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে রাতের আধারে কথিত রাস্তা নির্মাণের নামে প্রবাসির টিলাভূমি কর্তন শুরু করে। ৭ এপ্রিল রাতের আধারে এক্সকেভেটর দিয়ে টিলা কর্তন শুরু করলে প্রবাসির পরিবারের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। কিন্তু তারা বাধা-নিষেধ মানেনি। নিরুপায় হয়ে ভোক্তভোগি পরিবার ৯৯৯-এ ফোন দিলেও ঘটনাস্থলে যায়নি থানা পুলিশ। পরদিন ৮ এপ্রিল পুনরায় টিলা কাটা শুরু করলে ভোক্তভোগিরা দুপুরে আবারও ৯৯৯-এ ফোন দিলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জুড়ী সহকারি কমিশনার ও ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) সাবরিনা আক্তার।
সরেজমিনে গেলে দুবাই প্রবাসী ভোক্তভোগী পরিবারের লোকজন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা কোন একটা দেশে বসবায় করছি, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্রয়কৃত টিলা কেটে রাস্তা নির্মাণের পায়তারা চালায় অসাধু কিছু লোক। নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা করি, রায় পাই এবং ওই ভূমিতে প্রতিপক্ষ কোনো ধরণের তৎপরতা না করার জন্য আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আাদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা কয়েকশ’ লোক জড়ো হয়ে রাতের আধারে জোরপূর্বক রাস্তা কাটতে থাকে। বাধা দিলে মানেনি। ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশ আসেনি। তবে, পরদিন ফোন দেওয়ায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে টিলা কাটার দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেও আজও কোনো ব্যবস্থা নেননি।
এব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভুমি সাবরিনা আক্তার জানান, জোরপূর্বক টিলা কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। যারা রাস্তা নির্মাণের দোহাই দিয়ে টিলা কাটছে, প্রবাসির কম ক্ষতি করে অন্যদিকে তাদের জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরী করা যেত।
জুড়ী থানার ওসি মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, এর আগেও টিলা কাটার পায়তারার অভিযোগ পেয়ে পুলিশে গিয়ে বাধা দিয়েছে। ৭ এপ্রিল রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়েও ঘটনাস্থলে না যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, রাতের আঁধারে শত শত উশৃংখল জনতা টিলা কাটছিল। পুলিশের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটার আশংকায় ওই রাতে ঘটনাস্থলে যাননি।