ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ৯১ কোটি টাকার মহা উন্নয়ন প্যাকেজ  – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে পড়েছিলো লাশ ওসমানীনগরে সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্যোগে হিজরি নববর্ষ উদযাপন ও আলোচনা  সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ উন্নয়ন মেগা প্রকল্প: হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি : ধামাচাপা দিতে সক্রিয় সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধবপুরে পার্টনার কংগ্রেস : পুষ্টি  নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফর : স্বাগত জানিয়ে বড়লেখা বিএনপির মিছিল বড়লেখায় মাদক কারবারিসহ গ্রেফতার ৮ ছাত‌কে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের ভূমি দখলচেষ্টার অভিযোগে উত্তেজনা তিন মাস পর পুনরায় চালু ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল

ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ৯১ কোটি টাকার মহা উন্নয়ন প্যাকেজ 

  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

Manual1 Ad Code

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::

দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলা, ভাঙাচোরা সড়কের ধুলো, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিঃশ্বাস, এবং নাগরিক সেবার মারাত্মক সংকটে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ যেন ভুলে যাওয়া এক জনপদ।

Manual5 Ad Code

সেই অন্ধকারে আলো জ্বালতে ৯১ কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৮ দিনের মাথায় এমন দৃষ্টান্তমূলক ঘোষণা—এলাকাজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সায়মা সাদি মহল কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসার প্রধান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই মহা উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা করেন এমপি মিলন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গোবিন্দগঞ্জ–সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন।

Manual7 Ad Code

সভায় বক্তব্যকালে এমপি মিলন অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে বলেন, “গত ১৭ বছর উন্নয়নের গল্প শোনা গেলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো চিহ্ন নেই। আমি জনগণের কাছে গিয়েছি, তাদের কণ্ঠ শুনেছি—অবহেলার চিত্র চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মানুষই।” তিনি আরও বলেন, “ম‌ডেল  গো‌বিন্দগঞ্জ গড়াই আমার অঙ্গীকার। কোন দল ক্ষমতায় ছিল বা কোন এলাকায় কোন দলের আধিপত্য—তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। উন্নয়ন সবার অধিকার, এবং আমি সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছি।

Manual4 Ad Code

৬৬ কোটি টাকার শিক্ষাখাতের বিপুল বরাদ্দ—উন্নয়নের সবচেয়ে বড় ফোকাস মতবিনিময় সভায় এমপি মিলন গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষাখাতকে ‘সবচেয়ে অবহেলিত এবং সবচেয়ে জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একা শিক্ষাখাতেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা। এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত—গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে বহু প্রতীক্ষিত নতুন একাডেমিক ভবন শাহ সুফি মোজান্মিল আলী (র.) দাখিল মাদ্রাসা ও রাধানগর দাখিল মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলহাজ আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে উর্ধ্বমুখী ভবন সম্প্রসারণ বাংলাবাজার সামারুন নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার এছাড়া গোবিন্দগঞ্জ, বেরাজপুর, শিবনগর, শিমুলতলা, হাসনাবাদ, বরাটুকা, বাসনাকান্দি, আনন্দনগর–গোপালনগরসহ অন্তত ১৪টির বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে—যা এ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

আরও রয়েছে সাতটির বেশি বিদ্যালয়ে উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ—যার মধ্যে আছে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৈতক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াগাঁও আব্দুল জব্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলপার, বুড়াইরগাঁও, কটালপুর এবং কালারুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এদিকে শিবনগর, মুল্লাআতা, কটালপুর, শিমুলতলা, কৃষ্ণনগর, রায়সন্তোষপুর ও লাকেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ও গেট নির্মাণসহ নিরাপত্তা–সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। শ্যামনগর, বাংলাবাজার, বুড়াইরগাঁও, লাকেশ্বর ও আনন্দনগর–গোপালনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত–সংস্কারের ঘোষণা ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। ২৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন—দুর্ভোগের ইতি ঘটানোর অঙ্গীকার গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা—রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় এ অঞ্চলের সড়কগুলো শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, অনেক ক্ষেত্রে অচল হয়ে পড়েছে। সভায় এসব সমস্যা তুলে ধরা হলে এমপি মিলন ঘোষণা দেন ২৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন বাজেটের। এই বরাদ্দে যেসব সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—
বুড়াইরগাঁও–টু আলমপুর হয়ে খাইরগাঁও সড়ক, তাজপুর–নুরুল্লাপুর–উজিরপুর–রামপুর সড়ক
বুড়াইরগাঁও–মোল্লাআতা সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ–বসন্তপুর সড়ক,গো‌বিন্দগঞ্জ থে‌কে বিনন্দপুর সড়ক,মু‌ক্তিগাও সড়ক।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে রাস্তা দিয়ে শিশু স্কুলে যায়, রোগী হাসপাতালে যায়, কৃষকের ধান-বাঁধাকপি বাজারে যায়—সেসব রাস্তা আর ভোগান্তির প্রতীক হয়ে থাকতে পারে না। কাজ দ্রুতই শুরু করা হবে। বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে উন্নয়ন অঙ্গীকার—রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে উন্নয়নের ডাক সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ, আব্দুর রহমান, নজরুল ইসলাম, ছাতক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম বকুল এবংস্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এজে লিমন। এছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, জাসাস ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতেই উন্নয়ন ঘোষণা—এটিকেএলাকাবাসী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দলীয় সীমারেখার ওপারে গিয়ে উন্নয়নের বার্তা দেওয়াগোবিন্দগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।

জনগণের প্রতিক্রিয়া—“আমরা দলের রাজনীতি চাই না, উন্নয়ন চাই” সভা শেষে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত উচ্ছ্বাসপূর্ণ। অনেকে বলেন,আমরা বহু বছর ধরে প্রতিশ্রুতি শুনেছি। এবার বাস্তব উন্নয়ন চাই। ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে গোবিন্দগঞ্জের চেহারা আমূল বদলে যাবে।”সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ৯১ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন “উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা”, আবার কেউ বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবি তুলছেন। তবে সবাই একমত—এত বড় বরাদ্দ যদি সঠিকভাবে বাস্তবে রূপ পায়, তবে গোবিন্দগঞ্জ আর পিছিয়ে থাকা অঞ্চল থাকবে না।

মতবিনিময় সভায় এমপি মিলনের বার্তা ছিল স্পষ্টউন্নয়ন আমার প্রতিশ্রুতি নয়, দায়িত্ব।” ৯১ কোটি টাকার ঘোষণায় আস্থার নতুন আলো জ্বাললেও এখন স্থানীয়দের চোখ মাঠপর্যায়ের কাজে। উন্নয়নের এই ঘোষণার বাস্তব রূপই নির্ধারণ করবে—গোবিন্দগঞ্জ আসলে নতুনভাবে জেগে উঠবে কি না।#

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!