প্রণোদনা নয় বোরোধান রক্ষায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহনের দাবি হাকালুকি পাড়ের কৃষকদের – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় দুই হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বীজ ও সার বিতরণ বড়লেখায় ঋণগ্রস্থের হতাশায় বিষপানে যুবকের মৃত্যু জুড়ীতে সিটি ব্যাংক শাখার উদ্বোধন কুলাউড়ায় প্রবাসীর জমি জবর দখলের চেষ্টা : আতঙ্কে প্রবাসী পরিবার সি‌লেট সুনামগঞ্জ ও‌ গো‌বিন্দগঞ্জ ছাতক সড়ক-ময়লার ভাগাড়ে জলাবদ্ধতা : দুর্ভোগ কমলগঞ্জে পাহাড়ি ছড়ায় পাওয়া গেল চা শ্রমিক যুবকের লাশ বড়লেখায় কমিউনিটি সেন্টারে চুরি : মালামাল উদ্ধার চোর গ্রেফতার বিশ্ব বাবা দিবস: সকল বাবাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা! বড়লেখা হাজীগঞ্জ বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম পারুলের দেশ সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছে কুলাউড়ার ৫ ক্ষুদে শিক্ষার্থী

প্রণোদনা নয় বোরোধান রক্ষায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহনের দাবি হাকালুকি পাড়ের কৃষকদের

  • বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

Manual4 Ad Code
এইবেলা, কুলাউড়া ::
মঙ্গলবার ৮ম দিনে এসে রোদ ঝলমল সকাল। কৃষক মনে যেন পরম স্বস্তির নিংশ্বাস। এখন যেন কথা বলার সময় নেই কারো। সবাই ব্যস্ত ধান মাড়ানি, নিড়ানি কিংবা রোদে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত। এমন চিত্র কোরবানপুর, সাদিপুর, গৌড়করণ, মহেষগৌরী, চিলারকান্দি, শমারকান্দি, বাদে ভুকশিমইলসহ হাকালুকি হাওর তীরের গ্রামগুলোয়।
হাকালুকি হাওর তীরের জয়চন্ডী ইউনিয়নের আবুতালিপুর গ্রামের কৃষক ললিত চন্দ্র নাথ, জিতেন্দ্র দাস, কাজল মিয়া, উস্তার মিয়া, আরব আলী, সেলিম মিয়া, মনিন্দ্র দাস, বেগমানপুর গ্রামের খেলা বিশ্বাস, কিরেন্দ্র দাস গত ৭-৮ দিন বৈরী আবহওয়া মোকাবেলা করে পানির পেট থেকে কেটে তোলা হয়েছে ধান। বৃষ্টি বাদলায় ধানগুলোতে পচন ধরেছে। ৮দিন পর রোদের দেখা মিলেছে। মাড়াই করে ধানগুলো শুকানো যাবে। হাওর থেকে পানি কমায় যেসব ধানী জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো, সেগুলো আবার ভেসে উঠেছে। এখন ধানের ক্ষতির চিন্তা নয় কোন মতে রোদে শুকিয়ে গোলায় তোলা গেলেই তারা খুশি।
কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন নাকি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক যেন এই তালিকার আওতায় আসে। তাদের অভিযোগ কিছু দলীয় নেতারা কৃষকের নামের পরিবর্তে তাদের দলীয় কর্মীদের নাম তালিকাভুক্ত করছেন। কৃষকদের দাবি, তারা সরকারি প্রণোদনা চান না, তারা চান- হাকালুকি হাওরে বোরো ধান রক্ষায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার।
হাকালুকি হাওর থেকে নৌকা যোগে ধান আসছে কোরবানপুর গ্রামের আশি বছরের জমির মিয়া, হাওরের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। তার চোখেমুখে রাজ্যের দু:শ্চিন্তা। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, আগেতো এমন ছিলো না। এখন প্রায় প্রতি বছর যেন কৃষকের স্বপ্ন কেড়ে নেয়ার জন্যই আগাম বন্যা আসে। কত উন্নত জাত। আগাম ক্ষেত। তারপরও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয় কৃষককে।

হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের মেম্বার মধু মিয়া ও জয়চন্ডী ইউনিয়নের মেম্বার বিমল দাস জানান, হাকালুকি হাওরে মাছের পর বোরোধানই হচ্ছে কৃষকদের বাচাঁর অন্যতম অবলম্বন। হাকালুকি হাওরের তীরেই পাহাড়ী এলাকা। ফলে বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ী ঢলে সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম হাকালুকি হাওরের বোরোধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে হাকালুকি হাওরের বোরোধান রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ‌্যোগ নেয়া দরকার।

Manual1 Ad Code

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো: জসিম উদ্দিন জানান, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা প্রদানের নির্দেশ এসেছে। তালিকাটি প্রস্থুত করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও)। ফলে তারাই নিশ্চিত করতে পারবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে। হাকালুকি হাওর তীরের বোরো ফসল রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া জরুরি। হাকালুকি হাওর যদি হাওর উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত করা যায়, তাহলে হাওরের ফসল রক্ষার বিষয়টি পরিকল্পনায় থাকেতো। আমাদের দূর্ভাগ্য যে সেই মহাপরিকল্পনায় হাকালুকি হাওর নেই।

Manual2 Ad Code

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকায় যাতে প্রকৃত কৃষকের নাম থাকে, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দশনা দেবো। আগাম বন্যা থেকে বােরাধান রক্ষায় পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তার জন্য প্রস্তাবনা গ্রহণ করে একটি পরিকল্পনা যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো যেতো। এজন্য হাকালুকি হাওর তীরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে কর্মশালা করা গেলে ভালো হতো।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!