বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার—১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু বলেছেন, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলমূখী করার ওপর বর্তমান জাতীয়তাবাদী আদর্শের সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখাই এর প্রতিফলন। শিক্ষার মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রাথমিক স্তর। আর এইজন্য প্রাইমারি শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাগুরুদের আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত, যোগ্য বিশেষ করে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলতে হবে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক উপজেলার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভাটি শিক্ষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুবের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ গোস্বামীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম জুবায়ের আলম।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু, সিনিয়র সহসভাপতি নছিব আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্ণি ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান, উপজেলা রিসোর্চ সেন্টার ইনচার্জ কাজী হুমায়ুন কবীর, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র বিএনপি নেতা আলাল উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম মামুন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম—সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ ললন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যুগান্তরের সাংবাদিক আব্দুর রব প্রমুখ।
বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতা প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমান, কলাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছয়ফুল হক, সহকারী শিক্ষক সাবলু মিয়া, মনির হোসেন, মমতাজ বেগম, আব্দুস শহীদ ও সজল সরকার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। তারা জানান, সারা দেশে ৩৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় প্রায় ৮০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয় পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ভূমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষকরা সরকার গঠনের পর নতুন পে—স্কেল ঘোষণার উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তারা আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম প্রদানের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা শার্ট, প্যান্ট, জুতা ও স্কুলব্যাগ পাবে। যা শিক্ষার্থীদের স্কুলমূখি ও পাঠে মনোযোগি করতে সহায়ক হবে।
প্রধান অতিথি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু এমপি শিক্ষকদের নানা দাবি দাওয়া এবং বড়লেখার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নের নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।