- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, হবিগঞ্জ

চুনারুঘাটে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও স্থলবন্দর স্থাপনে অনিশ্চয়তা

এইবেলা, হবিগঞ্জ, ০৬ আগস্ট:: হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম দুটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরুর পূর্বমূহূর্তে এসে কর্মকাণ্ড স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং বাল্লা স্থলবন্দরে ইতোমধ্যে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার পরও স্থানীয়ভাবে ফায়দা হাসিলের দ্বন্দ্বে উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শুধু রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল, স্থানীয় ভোটের রাজনীতি এবং ক্ষুদ্র স্বার্থত্যাগ করতে না পারার কারণেই চুনারুঘাটবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের সহজলভ্যতা থাকায় হবিগঞ্জের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর টিজি মৌজায় সরকারি ৫১১ একর খাস জমিতে ২০১৪ সালে ‘হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী জোনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে দ্রুত কাজ শুরু করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন অথরিটি বেজা। গত বছরের অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম বেজা চেয়ারম্যানের নামে উক্ত ৫১১ একর জমি কবুলিয়াত নামা রেজিস্ট্রি করে দেন।

কিন্তু কাজ শুরুর প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের শেষের দিকে এসে স্থানীয় ভোটের রাজনীতি, কতিপয় চা শ্রমিকের ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে এবং দেশের উন্নয়ন কাজে বিরোধিতাকারী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামে।

ফলে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির (বেজা) নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার পরও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতার ইউপি নির্বাচনে ভোটের ফায়দা নিতে চা শ্রমিকদের পক্ষ নেয়া ও রাজনৈতিক দল বাসদের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণে মাঝপথে এসে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চলতি আগস্ট মাস থেকে হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না।

এমনকি কবে নাগাদ এ কাজ শুরু হবে তাও কোনো দফতর বলতে পারছে না। অপরদিকে জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৬৪ বাল্লা বন্দর সরিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ের নেতাদের পরিদর্শনের পর চুনারুঘাটের কেদারাকোর্ট এলাকায় স্থাপনের অনুমোদন হয়।

এ সংক্রান্ত আদেশ জারীর পর চলতি বছরের ৩০ মার্চ নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বন্দরটি পরিদর্শনে আসেন এবং কেদারাকোর্ট এলাকায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করে ৬০ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়। সম্প্রতি জমি অধিগ্রহণ শুরু হলে স্থানীয়ভাবে দেখা দেয় বিপত্তি। কেদারাকোর্ট এলাকায় জমি থাকার পরও টেকারঘাট এলাকায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার উচ্ছেদ শুরু হলে আসে বাধা।

এ দ্বন্দ্বের কারণে জমি অধিগ্রহণ বন্ধ হলে বাল্লা স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাতে চুনারুঘাট তথা হবিগঞ্জবাসী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে বৃহৎ উন্নয়ন বঞ্চিত হবে না চুনারুঘাটবাসী। তিনি বলেন, বাল্লা স্থলবন্দর স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে বন্দরটি দিয়ে প্রতি বছর প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার পণ্য আমদানী-রফতানি হবে।

এতে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার বেকার কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হবিগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুত আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে বিস্তারিক জানাব।

আশা করি তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তিনি বলেন, বিশেষ ইকোনমিক জোনে কোরিয়া, জাপান ও চায়না কোম্পানিরা বিনিয়োগ করবে। এতে চা বাগানসহ জেলার লক্ষাধিক বেকার যুবক যুবতীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি চুনারুঘাট শহর তথা হবিগঞ্জ জেলার চেহারা পাল্টে যাবে। ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে কোনোভাবেই বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে চুনারুঘাটবাসীকে বঞ্চিত করা যাবে না।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *