অক্টোবর ১৪, ২০১৬
Home » জাতীয় » সুনামগঞ্জে দলীয় কার্যালয় নির্মাণে কাবিখার পৌণে ৬ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেন এমপি রতন

সুনামগঞ্জে দলীয় কার্যালয় নির্মাণে কাবিখার পৌণে ৬ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেন এমপি রতন

 এইবেলা, সুনামগঞ্জ, ১৪ অক্টোবর ::সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপির মুঠোফোনে বলেন,  দলীয় কার্যালয় নির্মাণে  মাত্র ২০ টন চাল বরাদ্দ  দিয়েছি এটা কোনো বিষয়ই না। ওই কার্যালয় নির্মাণে এ পর্য্যন্ত ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আমি নিজে কাজের বিষয়ে খোঁজ রাখছি। দলীয় কার্যালয় নির্মাণে কাবিখার বরাদ্দ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যেমন আওয়ামী লীগের কার্যালয়, তেমনি বঙ্গবন্ধু পরিষদেরর কার্যালয় আমি এতে অনিয়মের কিছু দেখছি না।

একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে আবারো নির্বাচনী এলাকায় আলোচনা- সমালোচনায় উঠে এসেছেন সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি। জেলার জামালগঞ্জে এক জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত রাস্তায় বিশেষ বরাদ্দের (কাবিটা) আড়াই লাখ টাকা দেয়ার পর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার পরও রাস্তার বরাদ্দের এক টাকার মাটি ভরাট না করে ওই জামায়াত নেতার পকেটে পুরো টাকা ঢুকে যাওয়ায় ওই সংসদ সদস্য নীজ দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েন। জামায়াত নেতার সাথে অতি সখ্যতার সমালোচনার রেশ কাঁটতে না কাঁটতেই আবারো সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিশেষ বরাদ্দের টাকায় দলীয় কার্যালয় নির্মাণের কারণে সরকারি অর্থের বে-হিসেবি অপচয় করায় নতুন করে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ,অফিস- আদালতপাড়া ও সুশীল সমাজের লোকজনের মধ্যে ওই সংসদ সদস্যের কর্মকান্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা মুখে পড়লেন।

pic-jamalganj-awamileeg-office

সরজমিনে গিয়ে শুক্রবার দিনভর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার মান্নানঘাট বাজারে আ’লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে বিশেষ বরাদ্দের ২০ মেট্রিক টন চালে ( যার বাজার মুল্য প্রায় ৫লাখ ৬০) হাজার টাকা। স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজেই ওই বরাদ্দ দিয়েছেন বলে যুগান্তরের নিকট স্বীকার করেছেন ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়,  ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার মান্নানঘাট বঙ্গবন্ধু পরিষদ মাঠে মাটি ভরাট ও সোলার প্যানেল স্থাপনের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ২০ মেট্রিক টন কাবিখার চাল বরাদ্দ দেন সরকার দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য।

সরেজমিনে শুক্রবার মান্নানঘাট বাজারে গিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাজারের লোকজনও ওই সংগঠনের কার্যালয়ের খোঁজ দিতে পারেননি। তবে তারা জানান, বাজারে জামালগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় নির্মাণের কাজ চলছে। ঘর নির্মাণ স্থলে  গিয়ে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৩৫ হাত লম্বা একটি আঁধা পাঁকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে তোলা হচ্ছে তবে ওপরে এখনো টিনের ছাউনি দেওয়া হয়নি, লাগানো হয়নি দরজা-জানালা। ঘরের সামনে পাঁচ-ছয় হাত জায়গা আছে। কোনো মাঠই নেই।

বাজারের পাশের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ তোতা মিয়া বলেন, এখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নামে কোনো সংগঠন নেই। ওই স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন, ২০ টন চাল ওই কার্যালয় নির্মাণের কাজে লাগানো হচ্ছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা কার্যালয় নির্মাণের কাজ তদারকি করছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জামালগঞ্জ ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য শারমিন সুলতানা বলেন, একজন ইউপি সদস্যকে প্রকল্প কমিটির সভাপতি হতে হয়। তাই স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবেএমপি সাব  আমারে প্রকল্পের সভাপতি করছইন (করেছেন)। তিনি আরও বলেন,  আমি নামেই সভাপতি, কাজ করতাইছন এইখানের আওয়ামী লীগের নেতারা। পিআইও মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন ভূঞা বলেন, প্রকল্পে বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাঠে মাটি ভরাটের কথা উল্লেখ করা থাকলেও বাস্তবে সেখানে আদৌ কোনো মাঠই নেই। তবে বাজারের এক স্থানে কিছু মাটি ফেলে একটি পাঁকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের বলা হয়েছে, এটিই বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যালয়।

জামালগঞ্জের ইউএনও টিটন খীসা বলেন, সাংসদ এখানে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে ২০ মেট্রিক টন চাল দিয়েছেন। এতে আমাদের করার কিছু নেই। দলীয় কার্যালয় নির্মাণে সরকারি কাবিখার বরাদ্দ দেয়া যায় কি না? এমন প্রেেশ্নর উওরে ইউএনও বলেন, ‘সাংসদ নিজের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এটা দিয়েছেন, আমরা তো কোনো বরাদ্দ দেইনি।#