ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় বিনা অপরাধে ১৫ দিন থেকে হাজতবাস করছে ২ নিরীহ ব্যক্তি

কুলাউড়ায় বিনা অপরাধে ১৫ দিন থেকে হাজতবাস করছে ২ নিরীহ ব্যক্তি

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৮ ডিসেম্বর :: পার্শ্ববর্তী বাড়ীর লোকজন, গ্রামবাসী, ওয়ার্ডের মেম্বার কিংবা চেয়ারম্যান জানেন না। অথচ বিনা তদন্তে মামলা রেকর্ড হলো। আসামী আটক করে পুলিশ জেলহাজতে প্রেরণ করলো। গত ১৫ দিন থেকে হাজতবাসকারী ২ ব্যক্তি জানেনা- কি তাদের অপরাধ? পুলিশ বলছে তাদের মিসগাইডেড করা হয়েছে।

এমনি এক আজগুবি ঘটনা ঘটেছে কুলাউড়াউপজেলার রাউৎগাও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে। সম্পূর্ন মিথ্যে কাল্পনিক  ঘটনায় নাটক সাজিয়ে থানায় মামলা দিয়ে একটি পরিবারের অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা ও পুত্রসহ ৩ জনকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী, মেম্বার ও চেয়ারম্যান এ ধরনের মিথ্যে  মামলা এবং মামলার প্রেক্ষিতে ২ জনকে পুলিশ কর্তৃক আটকের খবর পেয়ে হতবাক ও বিষ্মিত হয়েছেন।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার ভবানীপুর গ্রামের মো: লকুছ মিয়া (৫৫) এর সাথে চাচাতো ভাই সায়েস্তা মিয়ার জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুর্ববিরোধের জের ধরে মিথ্যে কাহিনী সাজিয়ে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত ছাড়াই ৩ ডিসেম্বর রাত ৩ টায় অভিযান চালিয়ে লকুছ মিয়ার অসুস্থ ছেলে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত জসিম মিয়া (২৭) ও অপর ছেলে আব্দুস সামাদ (২৪)কে আটক করে। আটকের কারণ পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে পুলিশ কোন সুদোত্তর দেয়নি। পরে খবর তার জেনেছেন, হৃদরোগী বৃদ্ধ মো: লকুছ মিয়া, তার অসুস্থ ছেলে জসিম ও সামাদের বিরুদ্ধে গত ১ ডিসেম্বর মারামারির বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার আসামী তারা পিতাপুত্রসহ ৩ জন। অথচ ১ ডিসেম্বর ভবানীপুর গ্রামে কোন ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে এলাকাবাসী, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার জানিয়েছেন।

সরেজমিন ভবানীপুর গ্রামে গেলে এ ব্যাপারে এলাকার ২ শতাধিক মানুষ মিথ্যা মামলা থেকে অসুস্থ পিতা ও দুই পুত্রকে অব্যাহতি চেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। এলাকাবাসী অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নাটকের সাথে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল মোক্তাদির মনু জানান, ভবানীপুর গ্রামে মারামারির কোন ঘটনা ১ ডিসেম্বর ঘটেইনি। কোন ধরনের তদন্ত ছাড়া মামলা রেকর্ড এবং আসামী আটকের ঘটনায় এলাকাবাসী বিষ্মিত হয়েছেন। এব্যাপারে রাউৎগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল জানান, ভবানীপুর গ্রামে ১ ডিসেম্বর কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলে আমি পুলিশকে জানিয়েছে।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা মিসগাইডেড. ফাইনাল রিপোর্টে ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে রিপোর্ট দেয়া হবে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, এধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। বাদির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঘটনা তদন্ত করা সম্ভব হয় না। যদি এধরনের ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বাদির বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। #