- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

বিএনপিতে সংস্কারপন্থী ও দলছুটদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

এইবেলা, ১৪ আগষ্ট:- দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে সংস্কারপন্থী ও দলছুটদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের ভাঙন, দলের সাংগঠনিক এবং সংস্কারপন্থীদের সম্পর্কে নানা মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি দলের দফতরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব তথ্য স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিবেদন তৈরি করার কাজ চলছে। এছাড়া দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের খসড়া যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত কাজ চলছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।
২০০৯ সালে ৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম ও স্বাভাবিকভাবে দলের যেসব নেতাকর্মী মারা গেছেন তাদের একটি তালিকা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে এসব নেতার বিষয়ে শোক জানাতেই এ তালিকা করা হচ্ছে। পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে তৃণমূলের কমিটি শেষ করে আগামী অক্টোবরের শেষে অথবা নভেম্বরে কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। সূত্র আরও জানায়, এসব কাজের পাশাপাশি কাউন্সিলের আগেই দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান খালেদা জিয়া। তারই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কৌশলে সংস্কারপন্থী নেতাদের দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাদের সক্রিয় করতে চিঠি দেয়া হয়েছে তৃণমূলে। ৯ আগস্ট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিটি গঠনে দলীয় মনোনয়নে যারা এর আগে এমপি ছিলেন তাদের মতামত নিতে বলা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, তৃণমূলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে দলের সাবেক এমপিদের সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে কৌশলে সংস্কারপন্থীদের দলে ফেরানোর সুযোগ করে দেয়া হল।এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, দলকে অধিকতর সংগঠিত ও সক্রিয় করতে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেখানে দল মনোনীত সাবেক এমপিদেরও মতামত নিতে বলা হয়েছে। এতে করে দলের সবাই কাজ করার সুযোগ পাবে। তবে স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সংস্কারপন্থীদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনকে মাত্র বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর বাকিরা তো দলেই রয়েছেন। আসলে যারা ওয়ান-ইলেভেনে সংস্কারপন্থী ছিলেন, তাদের মনে মনে ভয় রয়েছে। এসব ভয় দূর করে কাজ করলে দল তাদের যোগ্যতা বিবেচনা করবে।বিএনপির মনোনয়নে বিগত দিনে যারা এমপি ছিলেন দল পুনর্গঠনে তাদের মতামত নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) বিভিন্ন সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার যে ঘোষণা দিয়েছেন এর মধ্য দিয়ে তার একটি কার্যকরী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’এদিকে দল থেকে যারা বেরিয়ে গেছেন তাদের দলে ফেরাতে প্রথম পর্বের কাজ প্রায় শেষের দিকে। কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ এলডিপির নেতাদের বিএনপিতে ফেরানো খালেদা জিয়ার ওপর এখন নির্ভর করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আমি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন উভয়ই কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে প্রথমে কথা বলি। অলি আহমদের বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে আপত্তি নেই। কোনো শর্তও নেই। তবে তার দলের মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে বলেছেন। অলি আহমদের পর এ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। তিনিও এ বিষয়ে ইতিবাচক বলে জানান এমাজউদ্দীন আহমদ। আশা করি, খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফেরার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এরপর তারা বিকল্পধারার সঙ্গে বসবেন বলে জানান এমাজউদ্দীন আহমদ।দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলের কমিটি গঠনে কেন্দ্র থেকে যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে তা অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন খোদ কেন্দ্রের নেতারা। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, ওয়ার্ড থেকে জেলা বা মহানগর পর্যন্ত কয়েক লাখ ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে সামনে কোরবানির ঈদ রয়েছে। আমার আশঙ্কা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব কমিটি করা সম্ভব হবে না। তারপরও আশা করছি, তৃণমূলের কমিটি গঠনের পরপরই জাতীয় কাউন্সিল করা হবে। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যেখানে ৫০ জন নেতাকর্মী এক জায়গায় বসলেই আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেই বৈঠক করা হচ্ছে’ সেখানে কি করে সম্মেলন সম্ভব হবে। সম্মেলন করার সামর্থ্যও সংশ্লিষ্ট জেলা নেতাদের থাকতে হবে। পরিবেশও থাকতে হবে। তবে এই চিঠির মাধ্যমে দলে একটি গতি আসবে বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, তৃণমূলের কমিটি গঠনে প্রয়োজন হলে সময় বাড়িয়ে দেয়া হতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে কমিটি গঠন নিয়ে দলের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তারা কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের অভিযোগ হচ্ছে, এর আগেও মির্জা ফখরুল কারাগারে থাকার সময়ে তার অনুপস্থিতিতে ১৪ জেলা কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আবারও চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলে কমিটি গঠনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হল। এটা কোনো উদ্দেশ্যমূলক কিনা তা দলীয় হাইকমান্ডকে ভাবতে অনুরোধ জানিয়েছেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *