নভেম্বর ৪, ২০১৫
Home » মৌলভীবাজার » রাজনগরের ১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

রাজনগরের ১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

এইবেলা, রাজনগর, ০৪ নভেম্বর:: রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের অভাবে লেখাপড়ায় চলছে বেহাল অবস্থা। ওই ইউনিয়নের ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে চলে ওই ইউনিয়নের আরও ৪টি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলেতে শিক্ষক সংকট থাকায় লেখাপড়ায় চরম দুরবস্থার পাশাপাশি অকালেই ঝরে পড়ার সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া উপজেলা সদর থেকে দূরে ও বর্ষায় করুণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষকই এ ইউনিয়নের বিদ্যালয়ে থাকতে চান না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে সরকারি ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১নং ফতেহপুর ইউনিয়নের ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টির প্রাধান শিক্ষকের পদ শূন্য দীর্ঘদিন থেকে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। ফতেহপুর ইউনিয়নের উত্তর অন্তেহরি, দক্ষিণ অন্তেহরি, ইসলামপুর, আবদুল্লাপুর, জাহিদপুর, শাহবাজপুর, শাহপুর, পশ্চিম বেড়কুড়ি, ফতেহপুর, বেতাহুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে ২টি বিদ্যালয় চলছে ১ জন শিক্ষক দিয়ে। ২ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে আরও ২টি বিদ্যালয়। অন্যদিকে শিক্ষক সংকট ও ওই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ডেপুটেশনেও যেতে চান না শিক্ষকরা। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলা এসব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা মিটিং, ট্রেনিং বা অন্য কোন কাজে বিদ্যালয়ে না গেলে দেখা দেয় আরও সমস্যা। সরকারি শিক্ষকের পোস্টগুলো খালি থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ছুটি দিতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। উপজেলার ২২টি প্রধান শিক্ষক ও ২৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস জানিয়েছে।

১ জন শিক্ষক দিয়ে চলা শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগময় চক্রর্তী বলেন, আমার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি। শিক্ষক না থাকায় ১২১ জন ছাত্রছাত্রীর ৫টি ক্লাসে লেখাপড়ায় বিগ্ন ঘটছে। সব সময় এ ক্লাস ও ক্লাসে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। শিক্ষক চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। হাওর পাড়ের গ্রাম হওয়ায় কেউ যেতেও চায় না। অফিসিয়াল কাজে সদরে এলেও অন্যদের দিয়ে ক্লাস চালাতে হয়।

উতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষক সংকটে ছাত্রদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটা তাদের অধিকার থেকে বঞ্ছিত করা। নিয়মিত ক্লাস না হলে ছাত্রছাত্রীরাও লেখা পড়ায় মনোযোগী হতে পারে না। ফলে এর কুপ্রভাব পড়ে ছাত্রছাত্রীদের ওপর।

রাজনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রমোশনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে ওগুলোতে নিয়োগ দেয়া হবে। সহকারী শিক্ষকদেরও একই অবস্থা। নিয়োগ না থাকায় শিক্ষক দেয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেকে ওই এলাকায় থাকতে চান না।

রিপোর্ট-আব্দুর রহমান সোহেল