- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্লাইডার

রাজনগর পোর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিকক্ষের পদ নিয়ে দু’শিক্ষকের দ্বন্দ্ব

এইবেলা, রাজনগর, ০৮ নভেম্বর:: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা প্রাচীনতম বিদ্যাপিট পৌর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। দুই শিক্ষক নিজেদের প্রধান শিক্ষক দাবী করে চালিয়ে যাচ্ছেন কার্যক্রম। এদিকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে সহকারী জজ আদলাতে মামলা হলে আদালত কমিটির কার্যক্রমের উপর স্থায়ী স্থগিতাদেশ দেন।

জানা যায়, রাজনগর উপজেলা প্রাচীন বিদ্যাপিট ‘পোর্টিয়াস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’ ১৮৯৩ সালে তৎকালীন সিলেটের ডিসি জন আব্রাহাম পোর্টিয়াস প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাচীন এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কতেক সদস্যে বিরোধ এবং সর্বশেষ গত ১৩ আগষ্টের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষ করে এডহক কমিটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন করায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি মো. লুৎফুর রহমান গেদু এ নিয়ে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে মামলা (৬৫/২০১৫) করলে আদালত সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেন। আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ে জবাব না দেয়ায় গত ৩ নভেম্বর মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন।

এদিকে এর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলার কর্ণিগ্রামের আজিজুল ইসলাম খান তছকির নামে এক অভিভাবক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এনিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জন্য গঠিত এডহক কমিটি গত ৮ জুন বৈঠক করে প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল করিমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়। প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান দায়িত্ব হস্তান্তর না করে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট পিটিশ (৬৪৬২/১৫) করলে আদালত গত ১২ জুলাই এর বিরুদ্ধে ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। গত ১৫  সেপ্টেম্বর ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো ৬মাস বৃদ্ধি করা হয়। আদালতের রায়ের পর এডহক কমিটি জিল্লুর রহমানের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত রেজুল্যাশনের মাধ্যমে স্থগিত করে। প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান দায়িত্ব পেলেও এডহক কমিটির মৌখিক নির্দেশে মাওলানা আব্দুল করিম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা আব্দুল করিম জানান, কে প্রধান শিক্ষক- এটা কি বলবো। আদালতের ৩মাসের স্থগিতাদেশ শেষ হওয়ার পর আমি ইউএনও’র মৌখিত নির্দেশে দায়িত্ব চালিয়েছি। সহকারী জজ আদালতের স্থগিতাদেশের পর থেকে দায়িত্ব চালাচ্ছিনা।

প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, আমিই বৈধ প্রধান শিক্ষক। হাইকোর্টর নির্দেশ উপেক্ষা করে উনারা জোরপূর্বক দায়িত্ব চালিয়েছেন।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনুর আক্তার পান্না বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। ৩ মাসের স্থগিতাদেশের পর আদালত বেতনের-ভাতার বিষয়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ৬মাস বৃদ্ধি করেছেন। বিধায় তার বেতন ছাড়ে সমস্যা নেই। তবে প্রধান শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে স্থগিতাদেশের মেয়াদ না বাড়ায় তিনি প্রধান শিক্ষক থাকতে পারেন না।

রিপোর্ট-আব্দুর রহমান সোহেল

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *