ওভারলোড ট্রাকে ভেঙে গেল সোনাহাট সেতুর পাটাতন : চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

ওভারলোড ট্রাকে ভেঙে গেল সোনাহাট সেতুর পাটাতন : চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা

  • বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

Manual2 Ad Code

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ::
Manual8 Ad Code

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটবোঝাই একটি ট্রাকের অতিরিক্ত ভারে মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। ফলে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় ইটবোঝাই একটি ট্রাক সেতুর স্টিল অংশে উঠলে অতিরিক্ত লোডের কারণে সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে ট্রাকটি দেবে যায়। সেতুটির লোড ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ টন হলেও ট্রাকটি প্রায় ৩৯ টন মাল বহন করছিল বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেককে নৌকায় করে নদী পার হতে দেখা গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন।

Manual4 Ad Code

রাহিজুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি সোনাহাটে একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রতিদিনের মতো সময়মতো বাড়ি থেকে বের হলেও এসে দেখেন সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে। পরে বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে কাজে যোগ দেন।

এদিকে গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল জানান, মঙ্গলবার ভূরুঙ্গামারীতে সাপ্তাহিক গরুর হাট থাকায় ভোরে ভটভটিতে করে ৮টি গরু নিয়ে রওনা দেন। কিন্তু সেতু বন্ধ থাকায় নৌকায় পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এতে হাটে সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

Manual3 Ad Code

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোনাহাট সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যাওয়া ও ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটলেও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতুটি নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে দক্ষিণ ভূরুঙ্গামারীর তিন ইউনিয়ন, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করা হয়।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটির ধারণ ক্ষমতা ১০ টন হলেও ট্রাকে প্রায় ৩৯ টন মাল পরিবহন করা হয়েছে। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রাক মালিক ও ইট ক্রয়কারীর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওভারলোডের কারণে সরাসরি মামলা হয় না, তবে জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। #

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!