এইবেলা নিউজ::
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য প্রার্থী (জোটগত কারণে পরবর্তীতে মনোনয়ন প্রত্যাহার) কাতার প্রবাসি ব্যবসায়ি লুকমান আহমদকে সিলেটে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদা আদায় ও হত্যার হুমকি প্রদানকারি গ্রেফতার আসামি নাজমুল ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড আবেদনে সিলেট মহানগর অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা আক্তার আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নাজমুল ইসলাম বড়লেখা উপজেলার সুজাউল পাচপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে। সিলেটের সোবহানীঘাট আবাসিক এলাকায় বসবাস করে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানুষকে ইউরোপ-আমেরিকা পাঠানোর নামে অর্থ হাতিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতারণা, চাদাঁবাজির ও হত্যার হুমকির মামলা রয়েছে। খেলাফত মজলিস নেতা ও প্রবাসি ব্যবসায়ি লুকমান আহমদের চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলায় সিলেট কোতোয়ালি পুলিশ বড়লেখার অফিসবাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- নাজমুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রিয়া, জাহিদুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মৌলভীবাজার-১ আসনের খেলাফত মজলিস প্রার্থী বড়লেখা উপজেলার বড়থল গ্রামের লুকমান আহমদ রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও কাতারে তার ব্যবসা রয়েছে। সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে জোটগত কারণে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রিয়া মুখোশের আড়ালে একটি প্রতারক চক্র পরিচালনা করে। তাদের নেতৃত্বের প্রতারক চক্র প্রবাসী, সম্মানী ব্যক্তি ও বিত্তশালীদেরকে টার্গেট করে কৌশলে ফাঁদে ফেলে চাঁদাদাবী পূর্বক টাকা আদায় করে থাকে।
নজমুল ইসলাম গত বছরের মে মাস থেকে প্রবাসি খেলাফত মজলিস নেতা লুকমান আহমদের সাথে যোগাযোগ করে তার নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে সে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদের হেয় প্রতিপন্নসহ প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। আত্মসম্মানের ভয়ে তিনি তার দাবীকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা দেন। কিন্তু এতে নাজমুল সিন্ডিকেট সন্তোষ্ট হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে আবারো প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। হুমকি-ধামকিতে সমঝোতা করতে ওই বছরের ১৫ জুলাই তিনি দেশে আসেন। ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় বিবাদীর সোবহানীঘাটস্থ বাসায় গিয়ে দেখেন পূর্ব হতে অজ্ঞাতনামা ২/৩ ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করছে। এতে ভয় পেয়ে তিনি চলে আসতে চাইলে তারা তাকে আটকপূর্বক মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। প্রাণ ভয়ে তিনি তার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ঘরে থাকা ৪ লাখ টাকা আনিয়ে দিলে বিবাদীরা উক্ত বিষয়ে কোন মামলা মোকদ্দমা না করার শর্তে তাকে ছেড়ে দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার এসআই আল-আমিন জানান, চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলার প্রধান আসামি নাজমুল ইসলামকে বড়লেখা থেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে চার দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন। সোমবার শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।