নওগাঁ-৬ আত্রাই-রাণীনগর আসনে সৎ ও উন্নয়নমুখী প্রার্থীর খোঁজে ভোটাররা – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নওগাঁ-৬ আত্রাই-রাণীনগর আসনে সৎ ও উন্নয়নমুখী প্রার্থীর খোঁজে ভোটাররা মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন : ১৬৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ  কমলগঞ্জে চা শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার নিষিদ্ধ আ’লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর : সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) মৌলভীবাজার-১ আসন- বড়লেখায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন মৌলভীবাজার-১ আসন : জুড়ীতে মধ্যরাতে জামায়াত নেতাকর্মীরা হামলার শিকার : আহত ৭ কুলাউড়ায়  ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট ও নির্বাচনী সরঞ্জাম অপপ্রচার ও উসকানির অভিযোগ তুলে জুড়ীতে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠুর সংবাদ সম্মেলন সিলেট-২ আসন : এই অঞ্চলের মানুষ ইলিয়াস আলীর আমানত : লুনা নওগাঁ-৬ আত্রাই-রাণীনগর আসনের ৩৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

নওগাঁ-৬ আত্রাই-রাণীনগর আসনে সৎ ও উন্নয়নমুখী প্রার্থীর খোঁজে ভোটাররা

  • বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

Manual2 Ad Code

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি::

 বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে ভোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রার্থীদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে জয়ের প্রত্যাশা। এখন চলছে চুলচেরা হিসাব-নিকাশের পালা। তাই নির্বাচনের সময় যতই কমে যাচ্ছে, ততই ব্যস্ততার সাথে টেনশনও বাড়ছে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের।

এবারের নির্বাচনে ভোটাররা খুঁজছেন যোগ্য, সৎ ও উন্নয়নমুখী প্রার্থী, যিনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবেন। প্রার্থীরা আশা করছেন, জনগণের বিশাল সমর্থনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবেন। আসন্ন নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বশেষ আসন নওগাঁ-৬। আত্রাই-রাণীনগর এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু, মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম এবং হাতি প্রতীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা।

Manual5 Ad Code

এই ৫জন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে।  দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে এবার মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার আছে। যা মোট ভোটারের ১৭ শতাংশ।

একসময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। সেই কারণে এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী। যদিও দলীয় প্রতীক একটা বড় ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করবে, থাকবে সুবিধাস্থানে। তারপরও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত।

বিএনপি ও জামায়াতে ইলামীর আছে একটা নিদির্ষ্ধসঢ়;ট ভোট ব্যাংক। দুই দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কর্মীরা তাদের সমর্থন ও ভোট বাড়ানোর চেষ্টায় কাজ করে গেছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি কি আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে? এমনই প্রশ্নসহ ১২তারিখের অপেক্ষায় আছেন কর্মী সমর্থকরা।

যার কারণে নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন রাজনৈতিক দলগুলো। দিয়েছেন নিজ নিজ দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নানা প্রতিশ্রুতি। উদ্দেশ্য এলাকায় দলের প্রতীকে জয়ী হওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের গেম চেঞ্জার হতে পারেন সংখ্যালঘু ভোটাররা। তারা হতে পারে এই নির্বাচনে ‘ট্রাম্পকার্ডথ। কারণ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। এছাড়া বিগত দিনে এই আসনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটাররাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যার কারণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারাই এই আসনের প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন। কাজেই কোন প্রার্থী হাসবে বিজয়ের হাসি, পড়বে জয়ের মালা তা বলা মুশকিল।

সেই সাথে মোট ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। নির্বাচনে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এখন সংখ্যালঘু ও নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই হয়তো নাও যেতে পারে। হ্যারাসড হতে চান না কেউ।্য়ঁড়ঃ; ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে।  অলরেডি সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কাজেই যদি সকালের দিকেই মারামারিরমতো ঘটনা ঘটে তাহলে তো ভোটাররা ভয়ে আসতে চাইবে না।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাপক উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আসনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ দেখা দিলে তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটারদের আশা ও প্রত্যাশা আমরা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই। সবার জন্য ভাল হবে এমন পরিবেশ চাই। যেদলই ক্ষমতায় আসুক- আমাদের অধিকার যাতে পুরণ হয়। নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং দেশের সংস্কার। এছাড়া আমাদের বাক স্বাধীনতা ঠিক থাকে- এটাই আমরা চাই।

Manual7 Ad Code

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উন্নয়ন ও সুশাসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান এসব বিষয় এবার ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা।

Manual3 Ad Code

রাণীনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৫৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন (গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভোট নির্বিঘ্নে করতে এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোটকথা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি।

Manual3 Ad Code

আত্রাই উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) হিসাবে আমলে নেওয়া হয়েছে। তবে সুষ্ঠু  পরিবেশে ভোট প্রদানের জন্য আমরা সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

রাণীনগর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ ও আত্রাই থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।#

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!