নেপথ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা- জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নেপথ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা- জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জুড়ী থানায় ব্যবসায়ি কোম্পানীর ‘পুলিশ চেকপোষ্ট’ সম্বলিত সাইনবোর্ড প্রদান ওসমানীনগরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দআটক ১ দোয়ারাবাজারে এমপি কলিম উদ্দিন মিলনের দু’শত কোটি টাকার মহাপ্রকল্প ঘোষণা কমলগঞ্জে অভ্যন্তরীণ ৪৯১ টন বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন কুলাউড়ায় বিবাহ নিবন্ধনে অসঙ্গতির ব্যাখ্যা দিলেন কাজী জুনাইদ আহমদ প্রণোদনা নয় বোরোধান রক্ষায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহনের দাবি হাকালুকি পাড়ের কৃষকদের খাদ্যে ভেজাল রোধে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে —-এমপি লুনা কমলগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদে অমানষিক নির্যাতন; ভিডিও ভাইরাল কুড়িগ্রামে ওয়াল্ড ভিশনের আয়োজনে ৫৪টি পরিবার পেল স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন

নেপথ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা- জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

  • বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

Manual5 Ad Code

এইবেলা নিউজ::

Manual8 Ad Code

জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার লিখিত অভিযোগটি করেছেন উপজেলার বাছিরপুর এলাকার মৃত ওহাব আলীর ছেলে আব্দুল কাদির। অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে সরকারের মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে।

তবে, অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মোবাইল ফোনে অভিযোগকারি আব্দুল কাদিরের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান হাওরের হতদরিদ্র সাধারণ মাছ শিকারী জেলেদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে গত বছরের আগষ্টে আব্দুল কাদিরের শ্যালক মো. হেলাল মিয়াকে প্রধান আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। ওই মামলার জেরেই মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

নিজ দপ্তরে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, সরকারি কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। কর্মস্থলে ফিরেই এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে জুড়ী উপজেলায় কর্মরত থাকায় হাকালুকি হাওরের মৎস্য খেকোদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে হাওর লুটপাট করে আসছেন। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছেন। বিভিন্ন বিলে সরকারি জলমহাল নীতিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে সেচ মেশিন দিয়ে বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে আসছেন। বছরের পর বছর হাকালুকি হাওরের চাতলা, তুরল ও নাগুয়াবিলসহ বিভিন্ন বিলে প্রকাশ্যে ১০ থেকে ১৫টি পানি সেচের মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বিল শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করার অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে পরোক্ষভাবে তিনি এসবের প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ আহরণ এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে বিল সেচে মাছ শিকার কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে হাওরের মৎস্য খেকোচক্র আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি মাছের সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক বংশবিস্তার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। তদুপরি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সহযোগিতায় ইজারাকৃত বিলগুলোতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, সেচ/পাম্প মেশিন ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা এবং প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মতো অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। এসব কর্মকান্ডের ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে হাওরের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র ও মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে, যা পরিবেশ ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও দোকানে অবাধে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির পেছনে দোকান থেকে নিয়মিতভাবে মাসোয়ারা আদায় এবং কেউ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জাল জব্দ ও জরিমানা করান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। একই সঙ্গে হাকালুকি হাওরে অবৈধ টানা জাল, কাপড়ি জাল ব্যবহারকারী মৎস্য শিকারীদের কাছ থেকেও নিয়মিত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

Manual5 Ad Code

এব্যাপারে জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন জালের দোকানে রেকর্ড পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও হাওরে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ফলে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ তার ওপর ক্ষেপেছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আরো একটি গ্রুপ হাকালুকির জুড়ী অংশের বিভিন্ন ইজারাকৃত বিল (জলমহাল) দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যা তিনি এবং প্রশাসনের কারণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। হাওরের অসহায় গরীব জেলেদের থেকে একটি গ্রুপ নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। বিষয়টি নজরে আসলে পর্যাপ্ত ডকুমেন্টসহ তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। চক্রটি অবাধে অবৈধ জাল বিক্রি, পোনামাছ নিধন, অসহায় জেলেদের নিকট চাঁদাবাজি চালিয়ে যেতে এবং এখান থেকে তাকে বদলির উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ তোলেছে। এর পেছনে ওই চাঁদাবাজি মামলার আসামির যোগসূত্র রয়েছে। অভিযোগকারি আব্দুল কাদির চাঁদাবাজি মামলার চার্জশীটভুক্ত প্রধান আসামি মো. হেলাল মিয়ার ভগ্নিপতি। সুষ্ঠু তদন্ত হলে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণীত হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!