কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে লটকনের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বাড়ছে । এক সময় যা ছিল বুনোফল এখন সেটি মর্য়াদায় প্রায় ফলের বাজা আমের সমতুল্য। আগে যা বনে বাদারে অনাদরে প্রাকৃতিক ভাবে বুনোফল হিসেবে বেড়ে উঠতো।
সবাই এই ফল খেত না । পাখ পাখালি আর গ্রামের দুষ্টু কিশোর কিশোরীরা বন-বাদার হতে লটকন ফল সংগ্রহ করে কিছু খেত আর বেশির ভাগ ফলই নষ্ট হত। দিন বদলে এখন এই ফলের জনপ্রিয়তা বাড়ায় চাহিদা মেটাতে ফুলবাড়ীতে লটকন চাষির সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
লটকন চাষ লাভ জনক হওয়ায় এখন অনেকেই নেমে পড়েছেন লটকন গাছ লাগার কাজে। ফুলবাড়ীতে উৎপাদিত লটকন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন জেলার ভোক্তার চাহিদা মেটাচ্ছে । ফুলবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে এখন লটকন ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ।
এবার ফুলবাড়ীতে লটকনের ফলন ভাল হয়েছে । বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে কৃষকের কাছ থেকে বাগান কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় লটকন নিয়ে যাচ্ছেন। ভাল দাম পাওয়ায় বাগান মালিকরা খুবই খুশি। বাগান মালিক ছাড়াও যাদের সুপারির বাগানে,ঝোপে-ঝাড়ে, এক/ দুটি করে লটকন গাছ প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠেছে তারাও লটকন বিক্রি করে ৪/৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। লটকন চাষে তেমন খরচ নেই। তাছাড়া ইহা ভাল জমিতে চাষ করার প্রয়োজন নেই। ছায়া যুক্ত বা ঝোপ-ঝাড় ,জঙ্গল বেষ্টিত জমিতে লটকনের ফলন ভাল হয় ।
ইহা চাষের জন্য আলাদা কোন জমির প্রয়োজন হয় না। চাষিরা সুপারির বাগানের ফাঁকে, বন , বা,ঝোপ ঝাড় বেষ্টিত জমিতে লটকনের বাগান করে থাকেন। লাগানোর ৫/৬ বছরের মধ্যে নটকন ধরতে শুরু করে । গাছের গোড়া থেকে ছোট ডাল পর্যন্ত প্রচুর নটকন ধরে। একটি মাঝারি গাছ থেকে দুই থেকে আড়াই মন ও বড় গাছ থেকে দশ থেকে বারো মন লটকন পাওয়া যায়। আগে বনে -বাদারে লটকন প্রাকিতিকভাবে ফললেও বিক্রি করার কথা কেউ কল্পনাও করতোনা ।
কিন্তূ বর্তমানে লটকন জনপ্রিয়তায় গ্রীষ্মের অন্যান্য ফল যেমন কাঁঠাল ,আম, জাম ইত্যাদির সমান এবং ফুলবাড়ীতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চেয়ে বেশি দামে লটকন বিক্রি হচ্ছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা লটকন নিয়ে যাচ্ছেন ।
বড়ভিটা গ্রামের কৃষক শৈলেন্দ্র কুমার বলেন, তিনি ১ একর ৪০ শতক জমির সুপারি বাগানের ভেতর ৮০ টি লটকন গাছ লাগিয়েছেন। প্রতি বছর দের থেকে দুই লক্ষা টাকার লটকন বিক্রি করেন । শৈলেন্দ্রর দেখাদেখি শাহজাদা মিয়া ১ বিঘা,বাদল প্রফেসর ২বিঘা, লক্ষণ মাষ্টার ২বিঘা জমির সুপারি বাগানের ভিতর লটকন গাছ লাগিয়েছেন। সবাই ভাল দামে লটকন বিক্রি করে খুব খুশি। লটকনের বাগান লাভজনক হওয়ায় সবাই সুপারি বাগানের ভেতর ও ঝোপে ঝাড়ে লটকনের বাগান লাগার কাজে নেমে পড়েছেন। লটকন গাছের তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না।
প্রতি বছর ফল পাড়ার পর কিছু রাসায়নিক সার গাছের চারা পাশে পুঁতে দিতে হয়। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ফুল আসা থেকে ফল পাকা পর্যন্ত ৩/৪বার স্পে করতে হয় । লটকন ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ফুলবাড়ীর বিভিন্ন বাগান মালিকের কাছ থেকে লটকন কিনে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। ফুলবাড়ীর উৎপাদিত লটকন গুনে মানে ভাল হওয়ায় এর চাহিদা দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনে দিনে বাড়ছে।
ফুলবাড়ী কৃষি অফিস সুত্রে জানিয়েছে, লটকন চাষ লাভ জনক হওয়ায় এটি সাথী ফসল হিসেবে সুপারির বাগানে, ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং এর চাষের আওতাও বাড়ছে। কৃষি অফিস থেকে, লটকন চাষিদের সব সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।#