আল আমিন আহমদ : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাসুমা টিম্বাস এন্ড ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আধুনিক ডিজিটাল সিএনসি (CNC) রাউটার ও লেজার কাটিং মেশিনের উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির এ সংযোজনের মাধ্যমে এলাকার ফার্নিচার শিল্পে আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল মেশিনের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা, সাবেক উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সামছু মিয়া।
প্রযুক্তিনির্ভর এই মেশিনের মাধ্যমে কাঠের আসবাবপত্রে নিখুঁত ও জটিল নকশা, ফ্লাওয়ার ডিজাইন, ট্র্যাডিশনাল কারুকাজ এবং আধুনিক অলংকরণ সহজেই তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আধুনিক জীবনযাত্রার উপযোগী স্পেস-সেভিং ও মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সেগুন, মেহগনি, গামারি এবং উন্নতমানের প্রসেসড উড (MDF) ব্যবহার করে টেকসই ও মানসম্মত আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো ক্যাটালগ কিংবা থ্রিডি (3D) ডিজাইন সরাসরি মেশিনে ইনপুট দিয়ে হুবহু ফার্নিচার নির্মাণের সুবিধা চালু হয়েছে।
মাসুমা টিম্বাস এন্ড ফার্নিচারের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রুসমতে আলম, সাবেক সেক্রেটারি এম এ মুহিন মহসিন, বিশিষ্ট আগর আতর ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন, ইলিয়াস আলী, প্রদীপ চৌহান, রফিকুল ইসলাম রেনু, আব্দুর রহিম তারা এবং মাসুমা টিম্বাস এন্ড ফার্নিচারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঈন উদ্দিন, পরিচালক মাসুমা আক্তার, মাহসাদ আহমদ, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সকল সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকগণ, সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যবসয়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী সামছু মিয়া বলেন, চার দশক ধরে মাসুমা টিম্বাস এন্ড ফার্নিচার মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রতিষ্ঠানটিকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। এখন থেকে গ্রাহকরা তাদের পছন্দের যেকোনো ডিজাইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করে নিতে পারবেন। আমি প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।
স্থানীয়রা জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ শুধু মাসুমা ফার্নিচারের জন্যই নয়, জুড়ী অঞ্চলের কাঠশিল্পের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে স্থানীয় গ্রাহকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারাও আধুনিক, মানসম্মত ও কাস্টমাইজড ফার্নিচার সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।
মাসুমা টিম্বাসন এন্ড ফার্নিচারের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জামির।