বড়লেখায় চা বাগানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সি‌লে‌টের বরকতিয়া সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনে লতিফ সভাপতি ও মুক্তাদির সম্পাদক নির্বাচিত ছাতকে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক ব‌্যবসা‌য়ী গ্রেপ্তার জুড়ীতে মরহুম কটন আলী মাস্টারের স্মরণে মানবিক চায়ের দোকান ১০ উদ্বোধন কমলগঞ্জের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতির আগেই মারা গেলেন জয়গুন নাহার খানম কুলাউড়ার ভাটেরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা সাইফুল সিদ্দেকী সেফুলের অপতৎপরতা  রাজনগরে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি : ডাকাতের হামলায় গৃহকর্তা আহত কমলগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধরকে দল থেকে অব্যাহতি থানা পুলিশের অভিযান- বড়লেখায় চুরির মামলায় গ্রেফতার ৬, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল উদ্ধার

বড়লেখায় চা বাগানে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ

  • সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

Manual8 Ad Code

এইবেলা, বড়লেখা::

মৌলভীবাজারের বড়লেখার সাবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের সাবাজপুর চা-বাগানে টি বোর্ড ও বন বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই বেশ কিছু গাছ কাটার অভিযোগে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই গাছ কাটার প্রমাণ পেয়ে এসিল্যান্ড নাঈমা নাদিয়া তাৎক্ষণিক বেশ কিছু কাটা গাছ যেভাবে আছে সেভাবে সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে অন্যান্য গাছগুলো পরিমাপ করতে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

তবে, চা বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরেও চা বাগানের শ্রমিকঘর মেরামত, মৃতদেহ সৎকার, নতুন রাস্তা নির্মাণ, পুরাতন রাস্তা মেরামত ও সেতু নির্মাণে কিছু গাছ কর্তন করা হয়েছে। যা বাগানের ভেতরেই সংরক্ষিত রয়েছে। বাগান বিরোধী একটি মহল এগুলোকে বিনাঅনুমতিতে কাটা ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনকে জানিয়ে বাগানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টা করছে।

Manual5 Ad Code

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন টিলার কয়েকশ গাছ কেটে ফেলে বাগান কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা প্রশাসনে অভিযোগ করেন, বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ি নাসির উদ্দিন ও স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির নিকট বাগান কর্তৃপক্ষ বিধিবর্হিভুতভাবে গাছগুলো বিক্রি করেছে। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড়বড় গাছ কেটে হাতি দিয়ে টেনে নিচে নামিয়ে বাগান কার্যালয় ও ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে জড়ো করে রেখে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে ক্রেতারা বিভিন্ন স-মিলে নিয়ে যায়। এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুলাই বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগান পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ দেখতে পান। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার পক্ষে বনবিভাগ ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমতি প্রদানের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

Manual7 Ad Code

পরে সহকারী কমিশনার নাঈমা নাদিয়া ও রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল মৃধা (সহকারি বন সংরক্ষক), ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগানের অফিস সংলগ্ন স্থানে কেটে রাখা প্রায় ৫শ’ ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে টিলার বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা অন্যান্য গাছগুলোসহ বাগান কার্যালয় প্রাঙ্গণে পাওয়া গাছসহ বিনা অনুমতিতে কাটা সকল গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

Manual7 Ad Code

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পান। বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বনবিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই চা-বাগান গাছগুলো কেটেছে, যা বৈধ নয়। আপাতত গাছগুলো সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাগানের ভেতরের কাটা গাছের পরিমাপ করে (মেজারমেন্ট) প্রতিবেদন দিতে বনবিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

বনবিভাগের বড়লেখা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। প্রথম দিন বাগানে গিয়ে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাটা গাছ পাওয়া গেছে। এসিল্যান্ডের নির্দেশে রোববার ও সোমবার বাগানের ভেতরে গিয়ে দেড় শতাধিক গাছের মোতা সনাক্ত করেছেন। কাটা গাছের পরিমান হাজার ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। চূড়ান্ত মাপের পর প্রতিবেদন জমা দিবেন।

সাবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ আহমদ চৌধুরী গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাগানের মোট জমির আড়াই শতাংশে প্রতি বছর নতুন করে চা আবাদ (সম্প্রসারণ) করতে হয়। বাংলাদেশ টি বোর্ডের এ নির্দেশনা পালন না করলে বাগানকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।

তিনি জানান, ২০২২ সালে কতিপয় ভূমিদস্যু কর্তৃক চা বাগানের বিরাট অংশ অবৈধভাবে দখল করায় চা বাগান তাদের নিয়মিত সম্প্রসারণ কাজ করতে পারেনি। এতে বাগান ১২৫ একর ভূমির চা আবাদ সম্প্রসারণ কাজ পিছিয়ে থাকে। চা আবাদ সম্প্রসারণের জন্য উক্ত ১২৫ একর এলাকার রোগাক্রান্ত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ গাছ অপসারণের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে আবেদন করা হয়েছে। যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরেও চা বাগানের শ্রমিকঘর মেরামত ও মৃতদেহ সৎকার, নতুন রাস্তা নির্মাণ, পুরাতন রাস্তা মেরামত ও সেতু নির্মাণে কিছু গাছ কর্তন করা হয়েছে, যা বাগানের ভেতরেই সংরক্ষিত রয়েছে। বাগানের অবৈধ দখলদাররা এই গাছের ছবির সাথে দখলকৃত জায়গায় তাদের কর্তনকৃত গাছের ছবি সরকারের বিভিন্ন মহলে সরবরাহ করে কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews