কুলাউড়ায় মোটরসাইকেল মেইকার সজলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ! – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ায় মোটরসাইকেল মেইকার সজলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ! ছাতকে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুন নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুই ইউনিয়নবাসীর মানববন্ধন ছাতকে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন কমলগঞ্জে সড়ক সংস্কার: মাস না যেতেই উঠে গেছে সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ রাজনগরে ব্রিজের রেলিং ভেঙে তেলবাহী ট্রাক চালকের মৃত্যু সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার গণনার কারচুপিতে পরাজিত- বড়লেখায় নির্বাচনের প্রায় ৫ বছর পর ইউপি সদস্য রশিদ আহমদের শপথ জিপিএ-৫ পাওয়া অহনার স্বপ্ন আইটিতে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশের সেবা করা কুড়িগ্রামের প্রান্তিক চরাঞ্চলে সরকারি সেবা নিশ্চিতে ফ্রেন্ডশিপের সেমিনার ছাতকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় শালিশে নিষ্পত্তি : প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন অভিযুক্তরা

কুলাউড়ায় মোটরসাইকেল মেইকার সজলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ!

  • বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

Manual7 Ad Code

এইবেলা, কুলাউড়া ::

কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তর বাজার আউটার সংলগ্ন এলাকার সজল মেইকারের কাছে বাইক মেরামত করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন কয়েজন বাইক চালক। বাইকের ভালো পার্টসকে নস্ট বলে পরিবর্তন করিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এমন কয়েকজন অভিযোগও তুলেছেন।

Manual1 Ad Code

তবে সজল ভালো মানুষ এমন মন্তব্যও অনেকের। কেউ আবার বলছেন তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকায় কখন কি করেন, পরক্ষণে নিজেই জানেন না।

জানা যায়, কুলাউড়া হাসপাতালের উত্তর পাশে মরহুম পংকি মিয়ার বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় দীর্ঘদিন থেকে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করে আসছেন সজল মেইকার। অনেকের কাছেই তিনি ভালো একজন মানুষ। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল ৫ টার দিকে নতুন একটি ডিসকাভার বাইক নিয়ে বরমচাল এলাকার হাসান আহমেদ আসেন।

Manual1 Ad Code

এই হাসান আহমেদ বলেন, ওয়াল্টন শো-রুমের সামনে আসার পর হটাৎ করে তার বাইকের হাইড্রলিক্স জাম হয়ে যাওয়ায় সজলের দোকানে যান। সজল মেইকার সবকিছু দেখে বলেন যে, হাইড্রলিক্সে মেরামত করতে হবে এবং ক্লাসপ্লেট সেট চেঞ্জ করতে হবে। বাইক মালিক রাজি হলে সজল নিজের দোকান থেকে ক্লাসপ্লেট সেট লাগিয়ে হাইড্রলিক্সে মেরামত করে দেন। ক্লাসপ্লেট সেটের দাম নেন ১,৯৫০ টাকা এবং মেরামত বাবত নেন আরও ৫০০ টাকা। বাইক থেকে পরিবর্তনকৃত ক্লাসপ্লেট সেট রাখার জন্য জোর চেষ্টা করেন মেইকার সজল। কিন্তু বাইক মালিক তা দেননি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটিও হয়।

একপর্যায়ে বাইক নিয়ে রওয়া দেন হাসান। কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে যাওয়া মাত্রই আবারও চাকা জাম হয়ে যায়। তখন বাইক টেলে নিয়ে ওঠেন কুলাউড়ার প্রবীণ বাইক মেকানিক আবুল মিয়ার দোকানে। তিনি বাইকের সবকিছু দেখে বলেন, হাইড্রলিক্স জাম হয়ে গেছে। মেরামত করে ওয়েল চেঞ্জ করলে ঠিক হয়ে যাবে। এভাবে তিনি ঠিকও করে দেন। তখন বাইক মালিক হাসান তার বাইক থেকে খোলা ক্লাসপ্লেট সেট আবুল মেইকারকে দেখান এবং সম্পুর্ন ঘটনা খোলে বলেন। বিস্তারিত শুনে এবং চেঞ্জকৃত ক্লাসপ্লেট সেট দেখে অবাক হয়ে যান অভিজ্ঞ আবুল মেইকার।

Manual5 Ad Code

তখন বাইক মালিক হাসানকে আবুল মেইকার বলেন, আপনাদের মধ্যে কিভাবে কি হয়েছে আমি জানিনা। তবে ক্লাসপ্লেট সেট একেবারে ভালো এবং অরিজিনাল, এটা পরিবর্তনের কোন দরকারই ছিলো না। সে কেন পরিবর্তন করেছে সে-ই জানে বলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই কথা বলেন শহরের আরও ২-৩ জন বাইক মেকানিক।

এতে করে সজল মেইকারের প্রতি সন্দেহ জাগে বাইক মালিক হাসানের। তাই তিনি আবারও ফিরে আসেন সজলের দোকানে এবং এই বিষয়টি জানতে চান। এতেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন সজল মেইকার। তার এই আচরণে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান হাসান।

এমন ঘটনা আরও কয়েকজনের সাথেও করেছেন সজল মেইকার। জয়চন্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দা, প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, বাইক নিয়ে সজল মেইকারের কাছে গিয়েছিলেন টুকটাক মেরামতের জন্য। সজল মেইকার তাকে বলেন ঘন্টা খানিক পরে আসেন, ছোটখাটো ২-১ টা জিনিস লাগতে পারে। আমি ঠিক করে রাখবো। পরে ৬ হাজার টাকা দাবী করে বসেন সজল। অনেক্ক্ষণ বাকবিতন্ডা করে পুরো টাকা দিয়েই রেহাই পান এই প্রবাসী।

জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিহাব উদ্দিন জানান, তার বাইকের চেইন পিনিয়ন চেঞ্জ করে দেন সজল মেইকার। কিন্তু দুদিন পর একইভাবে চেইন পিনিয়নে সমস্যা করায় জুড়িতে এক মেইকারের কাছে গিয়ে বিস্তারিত বলেন। ওই মেইকার খোলে দেখে বলেন, এটা-তো অনেক পুরাতন চেইন পিনিয়ন। থ্রেট একেবারে নস্ট হয়ে গেছে। তিনিও বুঝতে পারলেন সজল মেইকারের কারসাজি।

জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া এলাকার বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ কমেন্ট করে বলেন, এই সজল একটা বাটপার সে মানুষের সাথে অনেক বাটপারি করে, আমার সাথেও করেছে। তার কাছে বিশ্বাস করে সাইকেল কাজে দিলে ভালো পার্টসগুলা রেখে দেয়, আর নষ্ট পার্টস লাগিয়ে দেয়। এই বাটপার নামের মেকানিক কুলাউড়া থেকে উচ্ছেদ করা দরকার।

হাসান আহমেদের বাইকের ক্লাসপ্লেটের বিষয়ে জানতে চাইলে সজল মেইকার বিভিন্নভাবে কথা ঘুরিয়ে পেছিয়ে বলেন, বাইকের মালিক বলেছেন চেঞ্জ করে দেওয়ার জন্য, তাই তিনি চেঞ্জ করে দিয়েছেন। এখানে আর কোন কথা নেই বলেই উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

Manual5 Ad Code

উপস্থিত সাংবাদিকসহ আরও দু’জন ব্যক্তি বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সাথেও অস্বাভাবিক আচরণ করেন সজল। তার এই আচরণ ছিলো রীতিমতো আক্রমনাত্মক। তাই কথা না বাড়িয়ে তারাও সেখান থেকে চলে যান।

কাদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দ, বিশিষ্ট সমাজসেবক সুলতান খান কমেন্ট করে জানান, সজলের মাথায় একটু সমস্যা আছে। সে এক ধরনের রোগী। এই ভালো চলছে তো চলছে। হঠাৎ ওলট-পালট হয়ে যায় । এটা সে-ও বুঝতে পারে না।

অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ মেকানিক ইউনিয়নের কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাবেক আইন সম্পাদক ও কুলাউড়ার প্রবীণ বাইক মেইকার ফয়েজ আলী আবুল জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। ওই ডিসকাভার বাইকের হাইড্রলিক্সে সমস্যা ছিল, ক্লাসপ্লেটে নয়। কিন্তু সজল কেন এটা পরিবর্তন করলো বুজলাম না। হয়তো ভুলবশত এমনটি হয়েছে। মানুষ মাত্রই ভুল হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!