কুলাউড়ার বেগমানপুর স: প্রা: বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য নিয়ে ধূম্র্রজাল নিরসন: সভাপতি বিজন চন্দ্র দাশ! – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুলাউড়ার ভাটেরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ওলামা লীগ নেতা সাইফুল সিদ্দেকী সেফুলের অপতৎপরতা  রাজনগরে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি : ডাকাতের হামলায় গৃহকর্তা আহত কমলগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত বড়লেখায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধরকে দল থেকে অব্যাহতি থানা পুলিশের অভিযান- বড়লেখায় চুরির মামলায় গ্রেফতার ৬, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল উদ্ধার কমলগঞ্জের পালিতকোনা পূজামন্ডপে গুণীজন সংবর্ধনা ছাতকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শণ করলেন সুনামগঞ্জ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ জুড়ী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ কমলগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

কুলাউড়ার বেগমানপুর স: প্রা: বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য নিয়ে ধূম্র্রজাল নিরসন: সভাপতি বিজন চন্দ্র দাশ!

  • রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

Manual1 Ad Code

এইবেলা, কুলাউড়া ::

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের বেগমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা সদস্য নিয়ে উত্তাপিত ধুম্রজালের নিরসন হয়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর ভূমি দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে বিজন চন্দ্র দাশকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়, বেগমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিজন চন্দ্র দাসের পিতামহ বৃন্দাবন দাশ ১৯৪৫ সালে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন তিনি তাঁর ব্যবহৃত চারা জমিতে (বর্তমানে যেখানে বিদ্যালয় আছে) শিক্ষাঘর স্থাপনের জন্য অনুমতি দেন।

Manual8 Ad Code

এরপর বৃন্দাবন দাশ ও এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি কালীচরণ দাশ মিলে শিক্ষাঘর তৈরির কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বেগমানপুর, নুরপুর, দূর্গাপুর, মিঠুপুর এলাকার লোজনও বাঁশ, বেত, ছন, টিন দিয়ে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। এভাবেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় বৃন্দাবন দাশের ব্যাবহৃত ওই চারা জমিতে।

পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি শুরু হওয়ার পর থেকেই দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে বৃন্দাবন দাশের ছেলে, দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক বীরেন্দ্র দাশ দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে সভাপতি ছিলেন। এরপর বীরেন্দ্র দাশের ছেলে, দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাশ দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে সভাপতি ছিলেন। এভাবেই প্রতিটি কমিটিতে তাদের পরিবারের সদস্যরাই দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে পৃথক পৃথক সময়ে সভাপতি পদে ছিলেন। এছাড়াও তাঁদের পরিবারের সকল ভাই-বোন বিভিন্ন সরকারি চাকুরিতে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

ধুম্রজাল নিরসনের লক্ষে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে বৃন্দাবন দাশের উত্তরসূরীদের দাতা পরিবারের সদস্য হিসেবে আমলে নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়।

উক্ত বৈঠকে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রেদোয়ান খান, বর্তমান সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জয়চন্ডী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক বকুল, জয়চন্ডী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, বর্তমান সভাপতি আতিকুর রহমান ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মোহিতুর রহমানসহ অনেকে।

ঘোষিত কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি সাবিনা আক্তার, বিদ্যোৎসাহী সদস্য প্রণজিৎ দাস, অভিভাবক সদস্য তাপস দাস, তাজুল ইসলাম, শৈব্যা রাণী দাস, বীথী রাণী দাস, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি বিমল দাস, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী রাবিন্দ্র দাস, ইউপি সদস্য হিসেবে বিমল দাস, প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিনিধি ফাতেমা বেগম এবং সদস্য সচিব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্যামলী রাণী পাল।

এক প্রতিক্রিয়ায় নবাগত সভাপতি বিজন চন্দ্র দাশ বলেন, এলাকার প্রবীণ সকলেই জানেন বিদ্যালয়ের জন্য এই জমিটি আমাদের পিতামহ বৃন্দাবন দাশ দিয়েছেন। এরপর এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি কালীচরণ দাশকে সাথে নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। কালীচরণ দাশ ছিলেন নি:সন্তান। পরবর্তীতে প্রত্যেকটা কমিটিতে দাতা সদস্য হিসাবে আমাদের পরিবারের লোকজনই ছিলেন। সম্প্রতি দাতা পরিবারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্কীত প্রশ্ন তুলেন স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বিমল দাস। এরফলে এটি নিয়ে এলাকায় ধূম্র্রজালের সৃষ্টি হয় এবং শান্তিপ্রিয় এলাকাটিতে বিভক্তি দেখা দেয়। অভিযোগও দেওয়া হয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে তদন্ত করে সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ডকুমেন্টারিতে বিশিষ্ট সমাজসেবক কালীচরণ দাশের নামটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করার জোর দাবি জানান সভাপতি বিজন চন্দ্র দাশ।

Manual3 Ad Code

এব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম জানান, ইউএনও মোহদয়ের নির্দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তিনি জেনেছেন যে, বৃন্দাবন দাশের উত্তরসূরীগণ বিগত সময়েও দাতা সদস্য হিসাবে প্রত্যোকটা কমিটিতে ছিলেন। আজ যারা প্রতিবাদ করছেন, তারাও সেইসময় সেটি মেনে নিয়েই কমিটি করেছেন। তাই তিনি সেই মোতাবেক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews