ছাতকে ৭২ বছরের মস্তাবের ঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ – এইবেলা
  1. admin@eibela.net : admin :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বড়লেখায় হাকালুকি হাওরপারে বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির মহড়া শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়াই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য- অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক ছাতকে ৭২ বছরের মস্তাবের ঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আত্রাইয়ে পানিতে পড়ে যুবকের মৃত্যু কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা; চালক নিখোঁজ কুলাউড়ার বিজয়া বাগানের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ফেরত পেলো চা শ্রমিক পরিবার কাতারে বহুতল ভবন থেকে পড়ে কুলাউড়ার এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু কুলাউড়ায় জলবায়ূ সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ কর্মশালা বড়লেখায় যাতায়াত রাস্তা বন্ধ ও ভূমি দখলের মামলা করায় বাদিকে হুমকি-ধমকি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড- ১৪ বছর ধরে কারাগারে নিরপরাধ এনামুল, মুক্তির অপেক্ষায় গোটা পরিবার

ছাতকে ৭২ বছরের মস্তাবের ঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Manual3 Ad Code
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
নিজের বসতভিটা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ছয় বছর ধরে বাড়িছাড়া জীবন কাটাচ্ছেন ৭২ বছর বয়সী মো. মস্তাব আলী। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাঁর বসতঘর ভাঙচুর করে স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর নিজ ভিটায় ফিরে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও সেখানে ফের বাধার মুখে পড়েছেন বলে দাবি তাঁর।
মস্তাব আলীর অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিজ বসতভিটায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধরের উদ্দেশ্যে হামলার চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এরপরও তাঁকে সুযোগমতো মারধর ও খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে ছাতক থানায় স্থানীয় সমুজ আলীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মস্তাব আলী।
থানায় দেওয়া অভিযোগে মস্তাব আলী উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর তাঁর বসতঘর ও দরজা ভাঙচুর করে স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ছাতক থানায় অভিযোগ করেন। পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাতক থানার মামলা নম্বর ০৬(০২)২১ রুজু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মস্তাব আলীর দাবি, মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা তাঁর ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারেননি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘ সময় রেলওয়ের একটি পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে মস্তাব আলী নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তৎকালীন সময়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত মোহাম্মদ লাহিনের নাম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে হয়রানি করে বাড়িছাড়া করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগপত্রে মস্তাব আলী তাঁর বসতভিটার জমির বিস্তারিত তফসিলও উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও মৌজার জেএল নং-২৪২, হালে ১৭৩, খতিয়ান নং-২৭, নামজারি খতিয়ান নং-১৩, দাগ নং-১৫, হালে ৪৪ নম্বর দাগের ভূমিটি তাঁর মৌরসি ও খরিদা সূত্রে দখলীয় সম্পত্তি। সম্প্রতি তিনি ওই ভূমি নিজের নামে নামজারিও করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত ছয়জন হলেন—ছাতক উপজেলার সৈয়দেরগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও (তকিপুর) গ্রামের সমুজ আলী (৪০), লায়েক (৩৫), রাসেল (৩২), মতছির (৫০), মর্তুজ আলী (৩৩) ও বুলবুল (৩০)।
মস্তাব আলীর অভিযোগ করা ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্থানীয় মরম আলী, সজ্জাদ আলী, মুক্তা বেগম ও হুসনা বেগমসহ কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন এবং অভিযোগের কিছু বিষয় সম্পর্কে সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি পারিবারিক বিরোধ?
ঘটনাটিকে ঘিরে উঠেছে ভিন্ন প্রশ্নও। মস্তাব আলী একদিকে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বাড়িছাড়া ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, তাঁর অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজনকে তাঁর সৎভাই, চাচাতো ভাই ও ভাতিজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি এর পেছনে পারিবারিক ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জমির কাগজপত্র যাচাই, পূর্বের মামলার নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে।
পুলিশের বক্তব্য
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মিজান মস্তাব আলীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের তদন্ত শেষ হলে ২০২০ সালের ঘটনার প্রকৃত কারণ, ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে কোনো বিরোধ রয়েছে কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে, প্রায় ছয় বছর ধরে নিজ বসতভিটায় ফিরতে না পারার অভিযোগ তুলে ৭২ বছর বয়সী মস্তাব আলী এখন প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও নিজের ভিটায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ দাবি করেছেন।##

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২ - ২০২৪
Theme Customized By BreakingNews

Follow for More!