কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং একই উপজেলার বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি রাজনগর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা কবির (৩০) এখনো পলাতক রয়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মোবাইলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকালে তাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জে আসামি জুবেল মিয়ার বসতবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের নিয়ে রাতভর ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখেও ওই ছাত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। টানা নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা তাকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর কমলগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে পৃথক স্থান থেকে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।